ভারতের রাজধানী দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণের হতাহতের ঘটনায় জোরালো হচ্ছে জঙ্গি তৎপরতা। ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সূত্রে উঠে আসছে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার এক চিকিৎসকের নাম।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর একাংশের দাবি, সিসি ক্যামেরার প্রকাশ্যে আসা ফুটেজে দেখা গেছে ওই চিকিৎসককে। যদিও দিল্লি পুলিশ বা অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থা এ বিষয়ে সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি।
আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যে গাড়িটিতে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটির নম্বর প্লেট হরিয়ানার রাজ্যের। সেই সূত্র ধরে জনৈক মহম্মদ সলমন নামে এক ব্যক্তিকে সোমবার রাতেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়া গাড়িটি তারই নামে রেজিস্ট্রেশন করা আছে বলে দাবি পুলিশের। যদিও জানা যাচ্ছে, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সলমন জানিয়েছেন, তিনি গাড়িটি পুলওয়ামার এক বাসিন্দাকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তবে গাড়ির নথিপত্রে এখনও নামবদল হয়নি।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, ওই গা়ড়িটির বর্তমান মালিক ছিলেন পুলওয়ামার এক চিকিৎসক। নাম ওমর মহম্মদ।
এদিকে, বিস্ফোরণের পরে আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন তদন্তকারী সংস্থাগুলো। সিসি ক্যামেরার একটি ফুটেজ ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা লালকেল্লার কাছে একটি পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে ছিল গাড়িটি।
ফুটেজে দেখা গেছে, গাড়িটিতে নীল-কালো রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে দেখা গেছে। ওই ব্যক্তিই চিকিৎসক ওমর।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, সম্প্রতি দিল্লির অদূরে ফরিদাবাদে বিস্ফোরক এবং বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্র পাওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল ও আদিল রাথারের সঙ্গেও তার যোগ ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে ওই প্রতিবেদনে। তাতে বলা হচ্ছে, দুই সহযোগীর গ্রেপ্তারের পরেই ঘাবড়ে গিয়েছিলেন ওমর। মুজাম্মিল এবং আদিলের গ্রেপ্তারের পরে তিনি ভয়ে ফরিদাবাদ থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। ঘাবড়ে গিয়েই ওই চিকিৎসক এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের সূত্র মতে, সাদা রঙের ওই ‘হুন্ডাই আই২০’ গাড়িতে ওমরই বসে ছিলেন। গাড়িটি প্রায় তিন ঘণ্টা লালকেল্লার কাছে এক পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। ওই সময়ে তাকে এক বারও গাড়ি থেকে নামতে দেখা যায়নি বলে পুলিশের ওই সূত্রের দাবি। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
এদিকে, সোমবারের গাড়ি বিস্ফোরণের পরে পাহাড়গঞ্জ, দরিয়াগঞ্জ এবং আশপাশের এলাকার হোটেলগুলিতে রাতভর তল্লাশি চালিয়েছে দিল্লি পুলিশ। খতিয়ে দেখা হয়েছে বিভিন্ন হোটেলের রেজিস্টার খাতা।
সোমবার সকালে দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (উত্তর) রাজা বান্থিয়া বলেন, “কোতোয়ালি থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। ইউএপিএ, বিস্ফোরক আইনের ধারা-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার উপযুক্ত ধারা যুক্ত করা হয়েছে। ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড-এনএসজি, দিল্লি পুলিশ এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের দল ঘটনাস্থলে রয়েছেন। যে গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছে, তাতে কিছু দেহাংশ পাওয়া গিয়েছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা সেগুলি সংগ্রহ করেছেন। আমরা এখনই চূড়ান্ত ভাবে কিছু বলতে পারছি না। তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।”
প্রসঙ্গত; দিল্লির লাল কেল্লার কাছে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে এতে আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এই ঘটনার পর পুরো ভারতেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।







