মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা অঙ্গরাজ্যের একটি শপিং মলে এক ভারতীয় মুসলিম কর্মচারীকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ ছুরি হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর ধর্ম সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলায় গুরুতর আহত ওই ব্যক্তিকে ১৫ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ঘটনাটি ঘটেছে ইউটার ওয়েস্ট ভ্যালি সিটির ভ্যালি ফেয়ার মলে। এ ঘটনায় ৪৮ বছর বয়সী পিটার মাইকেল লারসেনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা এবং নিষিদ্ধ বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে সল্ট লেক কাউন্টি কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।
আদালতের নথির বরাত দিয়ে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, লারসেন তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছেন যে ভুক্তভোগী মুসলিম হওয়ায় তিনি তাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিলেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি হেফাজতে নেওয়ার পর দাবি করেন যে তার “মুসলিমদের হত্যা করার উদ্দেশ্য” ছিল। বন্ধু ও সহকর্মীদের কাছে সোহেল নামে পরিচিত ভুক্তভোগী মলের একটি কিয়স্কে কাজ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার আগে লারসেন তার কাছে গিয়ে কথোপকথন শুরু করেন।
কাছের একটি গহনার দোকানের কর্মী লুনা নুনেজ জানান, অভিযুক্ত প্রথমে সোহেলকে জিজ্ঞাসা করেন তিনি কোথা থেকে এসেছেন। সোহেল নিজেকে ভারতের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন। পরে লারসেন জানতে চান তিনি মুসলিম কি না। সোহেল ইতিবাচক উত্তর দেওয়ার পরই হামলাকারী তাকে ছুরিকাঘাত করতে শুরু করে বলে অভিযোগ।
উটাহ ইসলামিক সেন্টারের ইমাম শুয়াইব দিন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, হামলার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি সোহেলের কাছে এক বোতল পানি চেয়েছিল। সোহেল পানি আনতে ঘুরে দাঁড়ানোর পরই তার ওপর হামলা চালানো হয়। গোফান্ডমি প্ল্যাটফর্মে চালু করা একটি সহায়তা তহবিলের তথ্যমতে, সোহেলকে ১৫ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তার একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং তিনি এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন ক্রেতা ও মলের কর্মচারী দ্রুত এগিয়ে এসে হামলাকারীকে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ এসে তাকে হেফাজতে নেয়।তদন্তকারীদের মতে, অভিযুক্তের কথিত সহিংস মনোভাব, চরমপন্থী বিশ্বাস এবং গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহ তাকে জনসাধারণের জন্য গুরুতর হুমকিতে পরিণত করেছে।
সোহেলের সহকর্মীরা তাকে একজন পরিশ্রমী এবং পরিবারনির্ভর মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী বলে জানা গেছে। সোহেলের ম্যানেজার আদনান মোহাম্মদ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ঘৃণাজনিত অপরাধের কোনো স্থান নেই। সোহেল সবসময় হাসিখুশি ও পরিশ্রমী ছিল। একজন মানুষকে হত্যা মানে শুধু একজনকে নয়, পুরো একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়া। প্রত্যক্ষদর্শী লুনা নুনেজ জানান, হামলার সময় তিনি এবং অন্যরা অভিযুক্তকে থামানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, হাতের কাছে যা পেয়েছি তাই ছুড়ে মেরেছি। মনে হচ্ছিল লোকটি সোহেলকে মেরে ফেলবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষমূলক অপরাধ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অভিবাসীবিরোধী বক্তব্য, শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী কর্মকাণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে ঘিরে উত্তেজনা এ ধরনের হামলার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।







