শ্রেয়াস আয়ার দ্রুত ফিরলেও শেষের ব্যাটাররা ভোগালেন বাংলাদেশকে। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও কুলদীপ যাদবের লড়াইয়ে বড় সংগ্রহই গড়েছে ভারত। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে সফরকারীরা তুলেছে ৪০৪ রান। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন চারটি করে উইকেট।
১৩৩.৫ ওভার ব্যাট করেছে ভারত। দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে তারা অলআউট হয়। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের অসমান বাউন্সের উইকেটে তারা গড়েছে লড়াকু সংগ্রহ।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে একশর আগেই ৫ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত (০)। উমেশ যাদবের বলে স্টাম্প উপড়ে যায় ইয়াসির আলী চৌধুরীর (৪)। ৫ চারে ৩০ বলে ২৪ রান করে ফেরেন লিটন দাস। দলীয় ৫৬ রানে ফেরেন অভিষিক্ত ওপেনার জাকির হাসান (২০)। পরে ফেরেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান (৩)।
তার আগে তৃতীয়বার জীবন পেয়েও সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া করেন আয়ার। ইবাদত হোসেনের বলে সরাসরি বোল্ড হন ৮৬ রানের ইনিংস খেলে। চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের সকালেও একবার জীবন পান আয়ার। ইবাদতের বলে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ ছাড়েন লিটন দাস। আগের দিন ইবাদত ও উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান একটি করে ক্যাচ ছাড়েন তার।
আয়ার ফেরার পর অশ্বিন ও কুলদীপ ৯২ রানের জুটি গড়ে চারশর কাছে নিয়ে যান ভারতকে। ফিফটি পেরিয়ে (৫৮) অশ্বিন স্টাম্পড হন মিরাজের বলে। তাইজুল এলবিডব্লিউ করেন কুলদীপকে (৪০)। মোহাম্মদ সিরাজকে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ বানান মিরাজ।
দ্রুত রান তুলতে থাকা উমেশ যাদব ১০ বলে দুই ছক্কায় ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ ১১ রানে চার উইকেট হারায় ভারত।
ভারতের পঞ্চম উইকেট জুটির প্রতিরোধ ভাঙেন তাইজুল। ব্যক্তিগত ৯০ রানে চেতেশ্বর পূজারাকে অসাধারণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন বাঁহাতি স্পিনার। ইবাদত হোসেনের বলে ১২ রানে থাকা পূজারার ক্যাচ নিতে পারেননি উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান। তাইজুলের বলে ৩০ রানে আয়ারের ক্যাচও ছাড়েন টাইগার কিপার।
সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেন ইবাদত। মিরাজের বলে মিড উইকেটে ক্যাচ ছাড়েন। আয়ার তখন ৬৭ রানে ব্যাট করছিলেন। বড় দুর্ভাগ্যের শিকার হন ইবাদতই। আয়ারের স্টাম্পে বল লাগিয়েও উইকেট পাননি। বলের স্পর্শে স্টাম্পের এলইডি লাইট জ্বলে উঠলেও পড়েনি বেল।
প্রথম সেশনে ভারতের তিন উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। দলীয় ৪১ রানে শুভমন গিল আউট হলে ভাঙে ওপেনিং জুটি। পরে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার লোকেশ রাহুল ও বিরাট কোহলি।
সেশনের শেষ বল অবধি ভারতকে চাপে রাখেন তাইজুল। শুভমনকে (২০) আউট করার পর ফেরান কোহলিকে (১)। রাহুলকে (২২) বোল্ড করেন খালেদ আহমেদ।
৪১ রানে প্রথম উইকেট হারানো দলটির স্কোর হয়ে যায় ৪৮/৩। সেখান থেকে হাল ধরেছেন রিশভ পান্ট ও পূজারা। পান্টকে (৪৬) দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে ৭৪ রানের জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ক্যাচ হাতছাড়ার কারণে পঞ্চম উইকেট জুটিটি হয়েছে ১৪৯ রানের।
বাংলাদেশ সফরে প্রথমবার টস জেতে ভারত। চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টেস্টে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রাহুল। ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচেই টস ভাগ্য সঙ্গী হয়েছিল বাংলাদেশের।
১০১তম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হয়েছে জাকির হাসানের। তবে একাদশে জায়গা পাননি জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সাতটি সেঞ্চুরি করা মুমিনুল হক।










