শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত আরমানের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি: রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত
৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া রাইসুল ইসলাম আরমানের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। অভিযোগের বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন এসব কথা জানান।
পোস্টে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘৪৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত রাইসুল ইসলাম আরমান, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত, তার বিষয়ে অনেকে আমাকে জানিয়েছেন। হামলাকারী রাইসুল ইসলামের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনেকেই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যোগাযোগ করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে তার বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার জন্য আমি দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করি, রাইসুল ইসলাম আরমানের মতো নির্যাতনকারীদের বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
রাইসুলকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, রাইসুল ইসলাম আরমান আমার আবাসিক হল সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী। আমি তাকে প্রথম বর্ষ থেকেই চিনি। তার বড় ভাইও ছাত্রলীগের নেতা। মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করলেও ছাত্রলীগে যোগদান করে সন্ত্রাসী বনে যায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নির্যাতনের কারণে শুধু চাকরিচ্যুত নয়, তাকে যথাযথ শাস্তিরও মুখোমুখি হতে হবে।
রাইসুল ইসলাম আরমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বহিষ্কারের তালিকায় তার নাম ছিল ৭২ নম্বরে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওই ঘটনায় প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী আহত হন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও স্থিরচিত্রে রাইসুলকে হামলায় সরাসরি অংশ নিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমেও তার হামলায় অংশ নেওয়ার ছবি প্রকাশিত হয়।
এরপর গত বছরের ১৭ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে ১২৮ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই তালিকায় রাইসুল ইসলাম আরমানের নামও ছিল।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ১ হাজার ৭০২ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ১ হাজার ৮০৭ জনকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করেছিল। তবে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে ১০৫ জনের নাম বাদ পড়েছে। তাদের মধ্যে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ৭১ জন। তাদের মধ্যে অভিযুক্ত আরমানের মেধাক্রম ১১তম।






