ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিদেশিদের জন্য আটক কেন্দ্র চালুর পর শত শত নথিপত্রহীন বাংলাদেশি অভিবাসী ও রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা বাংলাদেশি মুসলমান ও রোহিঙ্গারা আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়তে পারেন।
রোববার ৩১ মে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে নতুন আটককেন্দ্র কার্যক্রম শুরুর পর নথিপত্রবিহীন বহু বাংলাদেশি শ্রমজীবী মানুষ ও রোহিঙ্গা শরণার্থী দেশত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই, তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার ও আটকের আশঙ্কা বেড়েছে।

আল জাজিরাকে এক বাংলাদেশি অভিবাসী আক্তারুল শেখ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ভারতে সেলাইয়ের কাজ করেছেন এবং সেখানে তার পরিবার রয়েছে। তবে নথিপত্র না থাকায় এখন ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তার ভাষায়, আমি এখানে সেলাইয়ের কাজ করতাম। আমার পরিবার আছে, স্ত্রী আছে, দুই মেয়ে আছে। ওদের নিয়ে দেশে ফিরে যাচ্ছি। এখানে থাকতে দেবে না। আমি ছয়-সাত বছর ধরে এখানে আছি, কিন্তু কোনো কাগজপত্র নেই, তাই চলে যাচ্ছি।

আরেক অভিবাসী শামিম মন্ডল জানান, তিনি পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত ও বারুইপুর এলাকায় নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সরকারের কড়াকড়ির কারণে এখন তাকে বাংলাদেশে ফিরতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমি কনস্ট্রাকশনের কাজ করতাম, দেয়াল পরিস্কার ও নির্মাণকাজে ছিলাম। এখন সরকার বলছে আমাদের রাখা হবে না, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলা হচ্ছে। তাই সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় আছি।

বাংলাদেশি খুলনা জেলা অভিবাসী জানান, তিনি পশ্চিমবঙ্গের দুর্গানগর এলাকায় বসবাস করতেন এবং রঙের কাজ করতেন। প্রায় এক বছর আগে ভারতে গিয়েছিলেন। এখন ফিরে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার বলেছে দেশের মানুষ দেশে চলে যাওয়ার জন্য, তাই ফিরে যাচ্ছি।
মানবাধিকারকর্মীদের দাবি, অভিবাসনবিষয়ক কঠোর নীতি বাস্তবায়নের ফলে প্রান্তিক ও নথিহীন জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং নথিপত্রহীন বাংলাদেশি মুসলমানদের নিরাপত্তা, বসবাস ও জীবিকার অনিশ্চয়তা বেড়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।







