অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যমুনা সেতুর উপর একাধিক গাড়ি বিকল ও সড়ক দুর্ঘটনা এবং বৃষ্টির কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের শত কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের তৈরি হওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের।
মঙ্গলবার ২৬ মে রাত ১০ থেকে এ মহাসড়কের গাজীপুর ও সাভার অঞ্চল থেকে শুরু করে যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রাপ্ত পর্যন্ত ক্ষণে ক্ষণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
এতে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ বেশি হচ্ছে। এদিকে গতকাল থেকে বৃষ্টির কারণেও খোলা ট্রাক-পিকআপের মত ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতকারীদের চরম ভোগান্তী পোহাতে হয়েছে।
পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতভর গাজীপুরে চন্দ্রা ও ঢাকার সাভার এলাকায় তীব্র যানজট ছিলো৷ এর প্রভাবে পড়ে টাঙ্গাইল অংশে। মহাসড়কের যমুনা সেতু থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সাড়ি তৈরি হয়। ফলে এ মহাসড়ক জুড়েই যানবাহনকর ধীরগতিতে চলাচল করতে হয়েছে।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গেল ২৪ ঘন্টায় ৫৬ হাজার ২৩৯ টি যানবাহন পারাপার হয়। এছড়া উত্তরের যাত্রা স্বস্তির করতে ক্ষণে ক্ষণে পুরো সেতু দিয়েই একযোগে উত্তরের দিকে একমুখী যানবাহন চলাচল করানো হয়। এদিকে সেতুর উপরে গত রাত ১২ টা থেকে এখন পর্যন্ত ৫ টি গাড়ি বিকল ও দুটি গাড়ি দুর্ঘটনার ফলে কিছুটা ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
অধিকাংশ যাত্রী সাধারণের অভিযোগ এই শত কিলোমিটার মহাসড়ক দিয়ে যমুনা সেতু পাড়ি দিতেই ১৬ থেকে ১৮ ঘন্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। এতে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের ভোগান্তি অবর্ণনীয়। এজন্য বছর বছর এই চরম ভোগান্তির অবসান চান তারা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বৃষ্টি ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও সেতুর উপর একাধিক গাড়ি বিকল ও দুর্ঘটনার কারণে জটলা তৈরি হয়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, চারলেনের মহাসড়ক থেকে যানবাহন যখন দুই লেনের সেতুতে প্রবেশ করে তখনই প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়ে স্বাভাবিক গতি নষ্ট হয়। এছাড়া অতিরিক্ত গাড়ির চাপ, অতি বৃষ্টি, যানবাহন বিকল ও দুর্ঘটনা এবং বিশৃঙ্খল যানচলাচল কারণে মহাসড়কে কিছুটা ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ নিরলস কাজ করছে, দ্রুত সময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে জানান তিনি।








