ধর্ম ও জীবন

সেজদায় দোয়া কবুলের আশা, কিন্তু কোন ভাষায় করবেন দোয়া? জানুন বিস্তারিত

সেজদায় দোয়া কবুলের আশা, কিন্তু কোন ভাষায় করবেন দোয়া? জানুন বিস্তারিত

ছবি: সংগৃহীত

নামাজে সেজদা এমন একটি সময়, যখন একজন বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী অবস্থায় থাকে এমন কথা হাদিসে এসেছে। তাই সেজদায় বেশি বেশি দোয়া করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তবে অনেকের প্রশ্ন, আরবি ভাষায় দোয়া মুখস্থ না থাকলে নিজের মাতৃভাষায়, যেমন বাংলায়, সেজদায় দোয়া করা যাবে কি না?

এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই বিষয়টি বুঝতে হলে নামাজের ভেতরের দোয়া এবং নামাজের বাইরের দোয়ার বিধান আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

সেজদায় দোয়া করার বিষয়ে হাদিস রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা সেজদারত অবস্থায় তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে। অতএব তোমরা সেজদায় বেশি বেশি দোয়া করো।- সহিহ মুসলিম

এ হাদিস থেকে জানা যায়, সেজদা দোয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। দোয়া কি শুধু আরবিতেই হতে হবে?

নামাজের ভেতরে অন্য ভাষায় দোয়া করার বিষয়ে ফিকহের মাজহাবগুলোতে মতভেদ রয়েছে। বিশেষ করে ফরজ বা ওয়াজিব নামাজের সেজদায় বাংলা বা অন্য ভাষায় নিজের মনের কথা বলা এ বিষয়ে আলেমদের মত এক নয়।

হানাফি ফিকহের অনেক আলেমের মতে, নামাজের মধ্যে এমন ভাষায় দোয়া করা উচিত নয়, যা সাধারণ মানুষের কথাবার্তার মতো হয়ে যায়। বিশেষ করে নামাজের ভেতরে ইচ্ছাকৃতভাবে আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় দোয়া করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

অন্যদিকে কিছু আলেমের মতে, আরবি বলতে বা বুঝতে না পারা ব্যক্তির জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের ভাষায় দোয়া করার সুযোগ রয়েছে। তবে নামাজের মধ্যে এ বিষয়ে নিজের অনুসৃত মাজহাব বা বিশ্বস্ত আলেমের নির্দেশনা অনুসরণ করা উত্তম।

সেজদায় কী দোয়া করা যায়?

সেজদায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো বিভিন্ন দোয়া পড়া যায়। যেমন سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى

উচ্চারণ: সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা।
অর্থ: ‘আমার সর্বোচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।’

এর পাশাপাশি সহিহ হাদিসে বর্ণিত বিভিন্ন দোয়া পড়া যায়। নিজের প্রয়োজনের জন্য দোয়া করা যাবে?

হ্যাঁ। সেজদায় নিজের প্রয়োজনের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করার ব্যাপারে হাদিসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত দুঃখ, বিপদ, রিজিক, হেদায়েত, পরিবার কিংবা অন্য বৈধ প্রয়োজনের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়।

তবে নামাজের ভেতরে দোয়ার ভাষা নিয়ে মতভেদ থাকায় নিরাপদ পদ্ধতি হলো কোরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত আরবি দোয়াগুলো শেখা এবং সেগুলো দিয়ে দোয়া করা।

যারা আরবি জানেন না?

আরবি দোয়া মুখস্থ না থাকলে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। নামাজের বাইরে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে মনের কথা বলা যায়। আর নামাজের জন্য ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় ছোট ছোট দোয়া ও সূরা শেখার চেষ্টা করা যেতে পারে।

ইসলামের বিভিন্ন মাজহাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ফিকহি আলোচনা রয়েছে। তাই কেউ যদি দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় সেজদায় দোয়া করে থাকেন, তাহলে নিজের নামাজ সম্পর্কে অযথা দুশ্চিন্তায় না পড়ে একজন বিশ্বস্ত আলেমের কাছ থেকে নিজের মাজহাব অনুযায়ী সঠিক
নির্দেশনা নেওয়া ভালো।

একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য

নামাজের বাইরে আল্লাহর কাছে নিজের ভাষায় দোয়া করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। আপনি বাংলায়, ইংরেজিতে বা যে ভাষায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেভাবেই আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন ও অনুভূতির কথা বলতে পারেন।

কিন্তু নামাজের ভেতরে, বিশেষ করে সেজদায় ভিন্ন ভাষায় দোয়া করার বিধান নিয়ে ফিকহি মতপার্থক্য রয়েছে। তাই এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং নিজের অনুসৃত মাজহাবের বিধান জানা গুরুত্বপূর্ণ।

সেজদা দোয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ অবস্থায় বেশি বেশি দোয়া করতে উৎসাহ দিয়েছেন। তবে নামাজের ভেতরে বাংলা বা অন্য ভাষায় দোয়া করার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা হলো হাদিসে বর্ণিত আরবি দোয়াগুলো শেখা এবং নামাজের বাইরে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে মন খুলে দোয়া করা। ব্যক্তিগত ফিকহি অবস্থার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত আলেমের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।

 

বিষয়:দোয়া নামাজ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…