কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় একের পর এক বায়ুমণ্ডলীয় নদীর আঘাত হানার আশঙ্কায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার উপকূলজুড়ে উচ্চ নদীপ্রবাহে সতর্কতা জারি করেছে বি.সি. রিভার ফরকাস্ট সেন্টার।
সতর্কতার আওতায় রয়েছে দক্ষিণ ও উত্তর উপকূল, ভ্যাঙ্কুভার আইল্যান্ডের উত্তর ও পশ্চিম অংশ এবং হাইডা গুআই। এর অর্থ হলো নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। বড় ধরনের বন্যার সম্ভাবনা নেই, তবে নিচু এলাকাগুলোতে সামান্য প্লাবন হতে পারে। এটি সংস্থাটির তিন স্তরের বন্যা সতর্কতার মধ্যে সবচেয়ে নিচের স্তর।
পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন ধরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকায় বরফ গলে অতিরিক্ত পানি নদীতে যোগ হবে, যাকে বলা হচ্ছে রেইন-অন-স্নো প্রভাব।
উত্তর উপকূল, হাইডা গুআই, সেন্ট্রাল কোস্ট ও ভ্যাঙ্কুভার আইল্যান্ডে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা শনিবার থেকে রোববারের (১১ জানুয়ারি) মধ্যে। আর দক্ষিণ উপকূল ও লোয়ার মেইনল্যান্ডে ভারী বৃষ্টি হতে পারে রোববার দুপুর থেকে সোমবার (১২ জানুয়ারি) পর্যন্ত।
উত্তরাঞ্চলে নদীর পানি সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারে সপ্তাহান্তে। ভ্যাঙ্কুভার আইল্যান্ড ও দক্ষিণ উপকূলে সেই সময়টা হতে পারে রোববার থেকে সোমবার। পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, “সপ্তাহান্ত এবং সোমবার পর্যন্ত বাড়তি সতর্কতা জরুরি। এই আবহাওয়ার ধারা বন্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।”
এমার্জেন্সি ইনফো বি.সি. বাসিন্দাদের দ্রুতগতির নদী এবং অস্থিতিশীল নদীতীর থেকে দূরে থাকতে বলেছে।
অন্যদিকে এনভায়রনমেন্ট কানাডা উত্তর উপকূলের বিভিন্ন এলাকায়, যেমন প্রিন্স রুপার্ট, কিটিম্যাট ও টেরেসে শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বৃষ্টি ও ঝড়ের সতর্কতা জারি করেছে।
এই সময়ে ৫০ থেকে ১০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এর আগে হাইওয়ে ১৬ ও ৩৭–এর অভ্যন্তরীণ অংশ এবং টেরেসের আশপাশে পাঁচ থেকে ১০ সেন্টিমিটার তুষারপাত হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে একটি বায়ুমণ্ডলীয় নদী উত্তর উপকূলে প্রভাব ফেলছে, যা ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে। অভ্যন্তরীণ এলাকায় তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকায় শুরুতে বৃষ্টি ও তুষারের মিশ্রণ দেখা গেলেও পরে তা পুরোপুরি বৃষ্টিতে রূপ নেবে।
হাইডা গুআই, উত্তর ও সেন্ট্রাল কোস্ট এবং নর্থ ভ্যাঙ্কুভার আইল্যান্ডের খোলা উপকূলীয় এলাকায় শক্তিশালী বাতাস বইতে পারে। বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার, কোথাও কোথাও ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এনভায়রনমেন্ট কানাডা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকির কথাও জানিয়েছে। বাসিন্দাদের আলগা জিনিসপত্র নিরাপদে বেঁধে রাখতে এবং ভাঙা বিদ্যুৎ লাইনের কাছাকাছি না যেতে বলা হয়েছে।
উত্তর উপকূলের অভ্যন্তরীণ এলাকায় বিশেষ করে স্টুয়ার্ট অঞ্চলে ভারী তুষারপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সপ্তাহান্তে সেই তুষার ধীরে ধীরে বৃষ্টিতে রূপ নিতে পারে।







