হিজাব বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। রাজধানী তেহরানের রাস্তায় চলছে তুমুল বিক্ষোভ।
হিজাব-বিরোধী মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন ২০ বছরের হাদিস নাজাফি। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। সংবাদ মাধ্যম সূত্রের খবর, প্রথমে তাঁকে ব্যাপক মারধর করা হয়। এরপর তাঁর মুখ, বুক ও ঘাড়ে ছয়বার গুলি চালানো হয়।
নাজাফি হিজাব-বিরোধী প্রতিবাদে মাঝখানে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, সম্প্রতি তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যাতে দেখা যায় লোকেরা একটি করব খুঁড়ে তার ছবি রেখে কাঁদছে।
এর আগে পুলিশের হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর তা আরও তীব্র হয়েছে। তার মৃত্যুর প্রতিবাদে পথে নেমেছে দেশটির বহু সাধারণ মানুষ বিশেষ করে মহিলারা।
বিক্ষোভ যত তীব্র হচ্ছে ইরান সরকার দমনপীড়নের মাত্রাও ততই বাড়াচ্ছে। সেদেশের মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, হিজাব বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে এখনও অন্তত ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন ১২০০ জন।
যদিও সরকার জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৪১ ও গ্রেপ্তার হয়েছেন ৭৩৯ জন। এর আগে ইরানের মানবাধিকার (আইএইচআর) পরিচালক মাহমুদ আমিরি মোগাদ্দাম এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, “ইরানের জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার এবং মানবিক মর্যাদা অর্জনের জন্য রাস্তায় নেমে এসেছে। আর সরকার তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জবাব বুলেট দিয়ে দিচ্ছে।”
কুর্দিস্তানের উত্তর প্রদেশে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। এখন তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। ইরানের ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।
এই পোশাকবিধি অনুযায়ী নারীদের জনসমক্ষে চুল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখতে হয় এবং লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক।
হিজাব আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য চলতি বছরের ৫ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে ‘সঠিক নিয়মে’ পোশাকবিধি অনুসরণ না করা নারীদের সরকারি সব অফিস, ব্যাংক এবং গণপরিবহনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #no2hijab হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। দেশটির নারী অধিকার কর্মীরা গত ১২ জুলাই সরকার ঘোষিত জাতীয় হিজাব ও সতীত্ব দিবসে প্রকাশ্যে তাদের বোরখা ও হিজাব সরানোর ভিডিও পোস্ট করেন।







