হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ডারউইন টেস্টে প্রথমদিন ছিল বাংলাদেশের। তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি ও নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রানে দ্বিতীয় দিনও নিয়ন্ত্রণে ছিল টাইগারদের। প্রথম দুই সেশন ঝলমলে ছিল। তৃতীয় সেশনে ১১ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছু চাপে পড়ে সফরকারী দল। শেষদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের দৃঢ়তা, ১৪৭ বলে ৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আরেকটি স্বপ্নের দিনই পার করেছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার মারারা স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাটে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে থামে স্বাগতিকরা। জবাবে শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষের আগে ১১০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান তুলেছে বাংলাদেশ। ১৫৩ রানে লিড নিয়ে তৃতীয় দিনের সকালে মিরাজ ৩২ রানে এবং হাসান ১৩ রানে শুরু করবেন।
২৪ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম সেশনের অধিকাংশ সময় কাটিয়ে দেন তানজিদ-মুমিনুল। ১০২ রান যোগ করেন দুজনে। দলীয় ১৩৮ রানে মুমিনুল আউট হন। জুটি ভেঙে হ্যাজেলউডের বলে ক্যারির গ্লাভসে ক্যাচ দেন, ৮ চারে ৯৫ বলে ৪৯ রান করে যান বাঁহাতি মুমিনুল।
প্রথম সেশনের বাকি সময় পার করেন তানজিদ ও শান্ত। দ্বিতীয় সেশনের বেশিরভাগ সময়ও পার করেন দুজনে। ৯৩ রান যোগ করেন তারা। ২৩১ রানে তানজিদ আউট হলে জুটি ভাঙে।
আউটের আগে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন তানজিদ, টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ম্যাচ তার। অজি মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিও এটি। আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে শাহরিয়ার নাফীস খেলেছিলেন ১৩৮ রানের ইনিংস।
সেঞ্চুরির পরপরই আউট হন তানজিদ। ৬৫.৩ ওভারে ফেরেন। নাথান লায়নের হাওয়ায় ভাসানো বলে লং অফের উপর দিয়ে মারতে চেয়েছিলেন। স্টার্কের হাতে ধরা পড়েন। ৮ চার ও ১ ছক্কায় ১৯৭ বলে ১০১ রান করে যান বাঁহাতি ওপেনার।
দ্বিতীয় সেশনের বাকি সময় কাটিয়ে দেন শান্ত ও মুশফিক। এই সেশনে ১০৫ রান যোগ করে টিম টাইগার্স। ৮০তম ওভারে নতুন বল নেয় অস্ট্রেলিয়া। কিছুটা ধস নামে বাংলাদেশের মিডলঅর্ডারে। ৮১.৪ থেকে ৮৫.৩ ওভারের মধ্যে ১১ রান যোগ করতে তিন উইকেট পতন।
২৯৭ রানে চতুর্থ উইকেট পড়ে। হ্যাজেলউডের অফস্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন শান্ত। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ১২৬ বলে ৮৪ রান করে যান অধিনায়ক।
৩০৬ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় সফরকারীরা। ব্যাটে নেমে হাঁসফাঁস করছিলেন লিটন দাস। ব্যাটে বল আসছিল না ঠিকঠাক। ১২ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি। ৮৪.৫ মিচেল স্টার্কের বলে স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন।
পরের ওভারে কামিন্সের শিকার হন মুশফিকুর রহিম। ৮৬তম ওভারের তৃতীয় বলে তিনিও স্লিপে স্মিথের ক্যাচ হন। ৫ চারে ৫৫ বলে ৩৬ রান করে যান। ৩০৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপ আসে। পরে হাসান মাহমুদকে নিয়ে বাকি দিন পার করে দেন মিরাজ।
প্রথম ইনিংসে এপর্যন্ত দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউড। প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন নিয়েছেন একটি করে উইকেট।
বৃহস্পতিবার ব্যাটে নেমে হাসান মাহমুদের তোপে পড়েছিল অজিরা। প্রথমদিনে চা বিরতির পরপর ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায়। সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন স্টিভেন স্মিথ। জ্যাক ওয়েদারল্যান্ড ২৩, ট্রাভিস হেড ২২ এবং অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রান করেন।
১৭ ওভারে ৩ মেডেনসহ ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। তারর ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। ৩৯ রানে ২ উইকেট নেন ইবাদত হোসেন। ৫৫ রানে ২ উইকেট নেন তাসকিন।
তৃতীয় সেশনে ব্যাটে নেমে দেখেশুনে শুরু করেন সাদমান ইসলাম ও তানজিদ। উদ্বোধনীতে ৩৬ রান তোলেন। ৮.২ ওভারে সাদমানকে ফেরান স্টার্ক। ৩০ বলে ২০ রানে আউট হন টাইগার ওপেনার। পরে মুমিনুল ও তানজিদ ৬৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে প্রথমদিনের খেলা শেষ করেন।








