এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ফেনীর ফুলগাজীতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয়ের সাবেক অফিস সহকারী আবদুল বাকের হোসেনের ভাড়া বাসা থেকে সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে ফুলগাজী যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের পাশে তার ভাড়া বাসার নিচতলা থেকে এসব ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাসা থেকে ১০ বস্তা ত্রাণসামগ্রী ও তিন বস্তা শুকনা খাবারের প্যাকেট জব্দ করা হয়েছে। এসব সামগ্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারের জন্য বরাদ্দ ছিল। জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে ৩০০ কেজি চাল, ৩২ লিটার সয়াবিন তেল, ৩০ কেজি লবণ, ৩০ কেজি চিনি, ৩৩ কেজি মসুর ডাল, ২০০ গ্রাম ওজনের ৩০ প্যাকেট হলুদের গুঁড়া, ১০০ গ্রাম ওজনের ৩২ প্যাকেট মরিচের গুঁড়া এবং ১০০ গ্রাম ওজনের ৩১ প্যাকেট ধনিয়ার গুঁড়া।
উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার করা ত্রাণসামগ্রীর প্যাকেটে ‘২০২৪-২৫ অর্থবছর’ লেখা রয়েছে। এসব সামগ্রী পিআইও কার্যালয়ের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবদুল বাকের গত বছরের ১০ জুলাই ফুলগাজী উপজেলায় যোগ দেন। পরে চলতি বছরের ২২ জুলাই তাকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় বদলি করা হয়। তবে বদলির পরও তিনি ফুলগাজীর ভাড়া বাসাটি রেখে দেন। তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে ফুলগাজীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করায় তাদের সুবিধার জন্য বাসাটি রেখে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
আবদুল বাকের হোসেনের বয়স ৪৫ বছর। তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ানই ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আমিনউল্লাহর ছেলে। স্থানীয়দের ধারণা, ২০২৫ সালের বন্যায় ফুলগাজীর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য এসব ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ করা হয়ে থাকতে পারে। সরকারি ত্রাণের মালামাল একজন সাবেক কর্মচারীর ভাড়া বাসায় কীভাবে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগের বিষয়ে জানতে আবদুল বাকের হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফুলগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রাজীব আহমেদ বলেন, বাকের বর্তমানে সন্দ্বীপে কর্মরত। সন্তানদের পড়ালেখার কারণে বদলির পরও তিনি ফুলগাজীর বাসা পরিবর্তন করেননি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বলেন, জব্দ করা মালামাল থানা হেফাজতে রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার হামিদ বলেন, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মালামালের প্যাকেটে থাকা লেখা অনুযায়ী এগুলো ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সরকারি ত্রাণ। ওই ব্যক্তি ফুলগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহকারী (কাম কম্পিউটার অপারেটর) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় দুটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে একটি ফুলগাজী মডেল থানায় এবং অন্যটি বিভাগীয় পর্যায়ে করা হবে।








