এবারের রমজানে রোজাদারের ইফতারির অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ খেজুরের বাজারে রয়েছে সুখবর। গতবছরের তুলনায় প্রকারভেদে প্রতি কেজি খেজুরের দাম কমেছে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে এবারের রমজানে খেজুর গতবারের চেয়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কম দাম মিলবে।
ক্রেতারা বলছেন: বাজারে নজরদারি থাকলে এবছরের রমজানে কম দামে খেজুর পাওয়া যাবে।
রাজধানীর বাদামতলীর বিভিন্ন আড়ত ঘুরে দেখা গেছে: সব আড়তেই বিভিন্ন মানের প্রচুর খেজুর রয়েছে। দামও গতবছরের তুলনায় কম। শুল্ক ২৫ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করায় আমদানিও বেড়েছে।
টিসিবিতে বিক্রি করা হয় ইরাকের ‘জাহিদি’ খেজুর। গত বছর রোজায় বিক্রি হয়েছিল ২৩০ টাকা কেজি। এবার একই খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। রমজান উপলক্ষে খোলা ট্রাকে খেজুর বিক্রি করছে টিসিবি, বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকা দরে।
মাঝারি আকারের মেডজুল গত বছর বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি। এবার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩২০ টাকা কেজি।
এ ছাড়া প্রতি কেজি দাব্বাস খেজুর ৩০০-৩৬০ টাকা, মাশরুখ ৪০০ টাকা, সাফারি ৬০০ টাকা, সৌদি আরবের আম্বর ৬০০ টাকা, নাকাল ২৮০ টাকা ও ছড়া খেজুর ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার একটু দামি খেজুরের মধ্যে মান অনুযায়ী আজোয়া ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, মেডজুল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, মিসরের আম্বর ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন: আওয়ামী লীগের সময় খেজুর আমদানি নিয়ন্ত্রণ করত নজরুল ইসলামের নাসা ও হাজী সেলিমের মদিনা গ্রুপ। এবার সেই সিন্ডিকেট ভেঙেছে। গতবার খেজুর এসেছিলো সাড়ে ২০ হাজার টনের কাছাকাছি। এবার আমদানি হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টন।
ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলছেন: ডলারের দাম গতবছরের চেয়ে বেশি হলেও সরকার কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে এবার খেজুর আমদানিও হয়েছে বেশি। গত বছরের চেয়ে এবার খেজুরে দাম কম থাকবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাব বলছে: ১ জানুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খেজুর আমদানি হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টন। গত বছর একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ১৯ হাজার ৬৮৮ টন। অবশ্য ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে, রোজায় খেজুরের চাহিদা ৬০ হাজার টন। বন্দর দিয়ে এখনও প্রতিদিন খেজুর আসছে।








