‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ ফিফা বিশ্বকাপ গড়াতে বাকি আর ২৬ দিন। রেকর্ড ৪৮ দেশের ১০৪টি ম্যাচ ও রেকর্ড ব্যয়ের ২০২৬ বিশ্বকাপের আসরকে ঘিরে থাকছে বাড়তি উত্তেজনা। চার বছর পর পর হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ঘিরে এখনও জীবন বাঁজি রাখতে প্রস্তুত লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেইমার, এমবাপের মতো তারকারা। যে সোনালী ট্রফির জন্য এতো লড়াই, এতো ত্যাগ, সেই ট্রফির ৯৬ বছরের ইতিহাস কী?
বিশ্বকাপ ভ্রমণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের অনেকেই কাছ থেকে ট্রফি দেখার সুযোগ পেয়েছেন ফিফার সৌজন্যে। তবে এ ট্রফির সঙ্গেও যুক্ত আছে একাধিক ট্র্যাজেডির ইতিহাস। বর্তমান সোনালী বলের ট্রফির আকৃতি ১৯৭০ সালের আগ পর্যন্ত ছিলো গ্রিসের বিজয়ের দেবী নিকের আদলে। ১৯৪৬ সালে তৎকালীন ফিফা প্রেসিডেন্টের নাম অনুসারে নামকরণ হয় জুলে রিমো। তবে ট্রফির ভাগ্য বিজয়ীদের মতো উল্লাসিত নয় বরং করুণ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ৩ দশমিক ৮ কেজি ওজনের লাপিস লাযুলির ভীতের নান্দনিক শৈল্পিক ট্রফিটি নাৎসি বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করতে ফিফার সহ সভাপতি অটোরিনো বারাসি ইতালির নিজ বাসায় জুতার বাক্সে লুকিয়ে রাখেন। পরে সেটা উদ্ধার হলেও ১৯৬৬ সালে আবারো চুরি হয় ইংল্যান্ডের মিউজিয়ামে প্রদর্শনীর সময়। শেষপর্যন্ত পিকলস নামে একটি কুকুর লন্ডনের এক বাগান থেকে সেটা উদ্ধার করলে মান বাঁচে ইংরেজ জাতির। তবে গ্রিক পুরানের মিথ যেমন বাতাসে মিলিয়ে যায় তেমনি ১৯৮৩ সালে সেই ট্রফিকে আর জনসম্মুখে দেখেনি কেউ। টানা তিনবার বিশ্বকাপ জিতে নিজেদের করে নেয়া ব্রাজিলের সেই জুলে রিমো ট্রফিটি চুরি হয় তাদেরই কনফেডারেশনের অফিস থেকে। ৪৩ বছরেও উদ্ধার হয়নি, তবে এ ঘটনার আগেই নতুন ট্রফি খুঁজে নেয় ফিফা।
১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপের জন্য সেরা সাত দেশের ভাস্করদের ৫৩টি ডিজাইন থেকে বেছে নেয়া হয় সিলভিও গাজ্জানিগার ট্রফিটিকে। ১৮ ক্যারেটের সোনা দিয়ে ৩৬.৮ সেন্টিমিটার উচ্চতার ট্রফিটির ওজন ছয় কেজি ১৭৫ গ্রাম। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৪৫ কোটি টাকারও বেশী, যা বিশ্বের সবচেয়ে দামি ট্রফি।
বর্তমানে বিশ্বকাপের ফাইনালের পর উল্লাসের জন্য ট্রফি দেয়া হয় বিজয়ী দলকে। নিরাপত্তার খাতিরে পরে মূল ট্রফির ঠাঁই হয় ফিফার সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জুরিখে। এর বদলে গোল্ড প্লেটেড রেপ্লিকা পায় বিশ্বকাপ জয়ীরা। কিন্তু মূল ট্রফিতে বিজয়ী দলের নাম লেখার জায়গাও শেষ হয়ে আসছে। ২০৩৮ সাল পর্যন্ত ট্রফিটি নাম লেখার জন্য ব্যবহার করা যাবে। তাই ২০৪২ সালের জন্য হয়তো নতুন ট্রফি খুঁজতে হতে পারে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে।








