সৌর জ্বালানি ও ব্যাটারির ভবিষ্যৎ বদলাতে পারে যে আবিষ্কার
ভিডিও প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য ও প্রাসঙ্গিক বর্ণনা নিচে পড়ুন।
একটি পদার্থ তৈরি হতে শুরু করে এক রকম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় অন্য রকমে। তবে শুরু আর শেষের মাঝখানে কী ঘটে? পদার্থের এই পরিবর্তনের মধ্যবর্তী ধাপগুলো পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন এমন কিছু পদার্থ, যেগুলো আগে অজানা ছিল। বিজ্ঞানীগণ বলছেন- নতুন এই আবিষ্কার ব্যাটারি ও সৌর জ্বালানি প্রযুক্তির উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক ও বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এ নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞান সাময়িকী ন্যাচার কমিউনিকেশনস-এ।
গবেষণায় বিশেষ ধরনের রাসায়নিক অণু ব্যবহার করে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পদার্থের গঠনে কী পরিবর্তন ঘটে, তা পর্যবেক্ষণ করেন তাঁরা। এ জন্য ব্যবহার করা হয় একাধিক উন্নত বিশ্লেষণপদ্ধতি।
সাধারণত বিজ্ঞানীরা কোনো পদার্থ তৈরি হওয়ার পর তার চূড়ান্ত গঠন ও বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করেন। কিন্তু এই গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পদার্থ তৈরির মধ্যবর্তী ধাপগুলোতে। কারণ, চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার আগেই পদার্থের এমন কিছু গঠন তৈরি হতে পারে, যেগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহারিক গুরুত্ব রয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞানীরা বিসমাথ ভ্যানাডেটের একটি নতুন রূপ আবিষ্কার করেছেন, যার নাম বিটা–বিসমাথ ভ্যানাডেট বা β-BiVO₄। এর পরমাণুর বিন্যাস আগে পরিচিত রূপগুলোর তুলনায় আলাদা। পাশাপাশি, এর ব্যান্ড গ্যাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বড়। গবেষকদের মতে, এসব বৈশিষ্ট্য সৌর জ্বালানি উৎপাদন ও অনুঘটক প্রযুক্তির উন্নয়নে নতুন গবেষণার পথ খুলে দিতে পারে।
এ ছাড়া, আরেকটি মধ্যবর্তী পদার্থে প্রচুর পরিমাণে লিথিয়াম ধারণের সক্ষমতা দেখা গেছে। এই বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ব্যাটারির জন্য উপযোগী উপাদান তৈরির গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
গবেষকদের মতে, পদার্থ তৈরির শুরুতে কোন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সেটি কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তা চূড়ান্ত পদার্থের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখন পর্যন্ত তাঁরা অল্প কয়েকটি প্রাথমিক উপাদান বা প্রিকার্সর নিয়ে কাজ করেছেন। ফলে তৈরির বিভিন্ন ধাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আরও নতুন পদার্থ আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই গবেষণা দেখাচ্ছে, কোনো পদার্থের চূড়ান্ত রূপ জানাই যথেষ্ট নয়; সেটি তৈরির পথে কী কী পরিবর্তন ঘটছে, তা বোঝাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। β-BiVO₄ এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা গেলে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের পদার্থ তৈরি করা সহজ হতে পারে। তবে নতুন আবিষ্কৃত পদার্থগুলোর বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।






