বিনোদন

প্রথম অ্যালবাম থেকে বিশ্বখ্যাতি, টেলর সুইফটের সংগীতজীবনের ২ দশক

প্রথম অ্যালবাম থেকে বিশ্বখ্যাতি, টেলর সুইফটের সংগীতজীবনের ২ দশক

গিটার হাতে কিশোরী বয়সে সংগীতজগতে পা রাখা টেলর সুইফট আজ বিশ্বসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী। ২০০৬ সালে প্রকাশিত তার প্রথম অ্যালবাম ‘টেলর সুইফট’ থেকেই শুরু হয়েছিল এক অসাধারণ সংগীতযাত্রা।

২০০৬ সালের ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত হয় টেলর সুইফটের প্রথম অ্যালবাম ‘টেলর সুইফট’। তখন তার বয়স মাত্র ১৬ বছর। অ্যালবামের সাধারণ সংস্করণে ছিল ১১টি গান, আর ডিলাক্স সংস্করণে ১৫টি। প্রেম, বিচ্ছেদ, অভিমান ও কৈশোরের নানা অনুভূতি উঠে এসেছিল গানগুলোতে।

‘টিম ম্যাকগ্র’, ‘পিকচার টু বার্ন’, ‘টিয়ারড্রপস অন মাই গিটার’, ‘আওয়ার সং’ ও ‘শুড হ্যাভ সেইড নো’ অ্যালবামের উল্লেখযোগ্য গান। নাথান চ্যাপম্যানের সংগীতায়োজনে কান্ট্রি সংগীতের সুর ও ব্যাঞ্জোর ব্যবহার অ্যালবামটিকে দিয়েছিল স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, প্রতিটি গানই টেলর এককভাবে লিখেছিলেন অথবা সহ-লেখক হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

২০০৬ সালের জুনে প্রকাশিত হয় টেলরের প্রথম একক গান ‘টিম ম্যাকগ্র’, যা লিজ রোজের সঙ্গে যৌথভাবে লিখেছিলেন তিনি। গানটি কান্ট্রি সংগীতের তালিকায় শীর্ষ দশে জায়গা করে নেয়। ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গল্প বলার নিজস্ব ধরন দিয়ে গানটি শ্রোতাদের নজর কাড়ে।

অ্যালবামের আরেকটি উল্লেখযোগ্য গান ‘আওয়ার সং’ এককভাবে লিখেছিলেন টেলর। নবম শ্রেণির একটি প্রতিভা অন্বেষণ অনুষ্ঠানের জন্য গানটি লিখেছিলেন বলে জানা যায়। পরে গানটি কান্ট্রি সংগীতের তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করে। এর মধ্য দিয়ে গায়িকা হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি গীতিকার হিসেবেও নিজের দক্ষতা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

প্রকাশের পর অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০ তালিকায় পঞ্চম স্থানে অভিষেক করে এবং কান্ট্রি অ্যালবামের তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করে। দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রিয়তা ধরে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে মাল্টি-প্ল্যাটিনাম মর্যাদাও পায় এটি।

অ্যালবাম প্রকাশের আগেই ১৬ বছর বয়সে কান্ট্রি সংগীতের মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ গ্র্যান্ড ওলে অপ্রিতে পরিবেশনা করেছিলেন টেলর। পরবর্তী সময়ে ‘ফিয়ারলেস’ (২০০৮), ‘স্পিক নাও’ (২০১০), ‘রেড’ (২০১২) ও ‘১৯৮৯’ (২০১৪) অ্যালবামের মাধ্যমে সংগীতের বিভিন্ন ধারায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন তিনি।

তার সংগীতজীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় প্রথম ছয়টি অ্যালবামের মাস্টার রেকর্ডিংয়ের মালিকানা নিয়ে বিরোধ। বিগ মেশিন রেকর্ডস ছাড়ার পর মূল রেকর্ডিংগুলোর স্বত্ব অন্য মালিকের কাছে চলে যায়। পরে পুরোনো অ্যালবাম নতুন করে রেকর্ড করে ‘টেলরস ভার্সন’ নামে প্রকাশের উদ্যোগ নেন তিনি। ২০২৫ সালের মে মাসে নিজের প্রথম ছয়টি অ্যালবামের মাস্টার রেকর্ডিংয়ের স্বত্ব পুনরায় কেনার ঘোষণা দেন টেলর।

টেলরের প্রথম অ্যালবামের পুনরায় রেকর্ড করা সংস্করণ প্রকাশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি রেকর্ডিং অ্যাকাডেমির সঙ্গে এক আলোচনায় তার পোশাক, ফুলে সাজানো পিয়ানো এবং কান্ট্রি সংগীতকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার বক্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সূত্র ও সম্ভাব্য বার্ষিকী সংস্করণের তালিকা নিয়ে আলোচনা হলেও অ্যালবামটির নতুন সংস্করণ প্রকাশের তারিখ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা নেই।

দুই দশক আগে গিটার হাতে যে কিশোরী সংগীতজগতে যাত্রা শুরু করেছিলেন, আজ তিনি বিশ্বসংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী। ‘টেলর সুইফট’ অ্যালবামটি শুধু তার ক্যারিয়ারের সূচনা নয়, বরং ব্যক্তিগত অনুভূতি, গল্প বলার দক্ষতা ও নিজস্ব সংগীতভাষার মাধ্যমে শ্রোতাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির ভিত্তিও গড়ে দিয়েছিল। দুই দশক পরও অ্যালবামটি টেলরের সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে। দ্য স্টেটসম্যান

বিষয়:অ্যালবাম গায়িকা টেলর সুইফট পপ সংগীত সংগীত হলিউড

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…