আন্তর্জাতিক

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, স্থগিত ক্লাস

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, স্থগিত ক্লাস

ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে চলতি সপ্তাহের বাকি সময় উচ্চবিদ্যালয়ের ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু। শিক্ষা খাতে সংস্কার ও স্কুলের বিভিন্ন সংকট সমাধানের দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার ৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। উচ্চবিদ্যালয় অবরোধ করে রাখা শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে কয়েকটি এলাকায় কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।

শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত নিয়োগ এবং দীর্ঘ বিরতির দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।

কর্তৃপক্ষের হিসাবে, মঙ্গলবার দেশজুড়ে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। উচ্চবিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন জানিয়েছে, প্রায় ২ হাজার উচ্চবিদ্যালয় অবরোধ করা হয়েছে অথবা দিনের জন্য বন্ধ ছিল।

রাজধানী প্যারিসে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কৃষক, জ্বালানি খাতের কর্মী, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা বিক্ষোভে যোগ দেন। সন্তানদের সমর্থনে অংশ নেন অভিভাবকরাও। একই সঙ্গে আন্দোলনে উসকানিদাতাদের অনুপ্রবেশ এবং পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ জানান তারা।

বেশ কয়েকটি শহরেও বড় বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড।

তবে কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংস হয়ে ওঠে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন।

স্ট্রাসবুর্গের এক বিক্ষোভকারী হুগো ভেটজেল বলেন, সহিংসতার মাধ্যমে জবাব দেওয়া হলে বোঝা যায় গণতন্ত্র ঠিকভাবে কাজ করছে না। শাসকগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে প্যারিসের দরিদ্র শহরতলিগুলোতে এই আন্দোলনের শুরু হয়। পরে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি বিক্ষোভে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ক্লাস স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বলেন, একটি উচ্চবিদ্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিলে স্কুল ভবনের অবস্থা ভালো হয় না। স্কুলের পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রধান শিক্ষকদের নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অক্টোবরের শেষ নাগাদ শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন লেকর্নু। পুরোনো স্কুল ভবন সংস্কারের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি।

তবে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে। ফ্রান্স বর্তমানে বড় ধরনের ঋণ ও বাজেট সংকটে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন আল জাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। বিচার মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে অন্তত ২১৫ জন কিশোর ও ৭১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

সোমবার উত্তরাঞ্চলীয় লঁস শহরে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর গুরুতর আহত হয়। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা ভোয়া দ্য নোর জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় পুলিশের একটি গ্রেনেড তুলে নেওয়ার পর বিস্ফোরণে তার হাত ও বাহুর একাংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এদিকে ফ্রান্সের বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোনো প্রমাণ না দিয়েই তিনি দেশটির অস্থিরতার জন্য ব্যাপক অভিবাসন ও মুসলিমদের দায়ী করেছেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ব্যাপক অভিবাসনের ফল। তিনি বলেন, এটি স্কুল নিয়ে নয়, এটি ইসলাম নিয়ে। ইসলাম একটি সময়ের মহান দেশকে দখল করে নিতে চাইছে।

আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের ‘জিহাদি’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারিতে ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন পাওয়া মুসলিম প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের প্রসঙ্গেই তিনি এমন মন্তব্য করেন বলে ধারণা করা হয়।

বিষয়:ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সেবাস্তিয়েন লেকর্নু স্থগিত ক্লাস

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…