এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
দুর্নীতি, অর্থপাচারসহ একাধিক মামলার আসামি বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়। বর্তমানে বেনজীর আহমেদ দেশটিতে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ইউএইর আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন জমা দিতে হয়। এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে।
তিনি জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্তসংক্রান্ত নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বেনজীরকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়।
এ ঘটনাকে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ আরও সুগম হবে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে, অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ মে বেনজীর আহমেদ দেশত্যাগ করেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তবে তিনি কোন দেশে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তখন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আর দেখা দেননি।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালকের দায়িত্বেও ছিলেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।







