চোখে চোখ রেখেই ম্যাচের শুরু থেকে শক্তিশালী ফিলিস্তিনের সঙ্গে টক্কর দিয়েছিল বাংলাদেশ। বেশ কয়েকটি আক্রমণ গড়ে গোলের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিল। গোছানো ফুটবল খেলতে থাকলেও রক্ষণভাগের একের পর এক দৃষ্টিকটু ভুলে সব হয়ে যায় এলোমেলো। লাল-সবুজের দলকে বরণ করতে হল ৫-০ গোলের বড় পরাজয়।
বাছাইপর্বের এশিয়া অঞ্চলের আই গ্রুপে তিন ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ টেবিলের তলানিতেই থাকল। ফিলিস্তিন ৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে উঠেছে। এদিন লেবাননকে ২-০ গোলে হারানো অস্ট্রেলিয়া ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিল টপার। তিনে নামা লেবাননের পয়েন্ট ২।
কুয়েতের জাবের আল-আহমদ আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাতে ম্যাচের প্রথমার্ধের চিত্র ছিল ভিন্ন। বাংলাদেশ ৪২ মিনিট পর্যন্ত জাল অক্ষত রাখতে পেরেছিল।
সপ্তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ডান প্রান্ত থেকে ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন বল নিয়ে দ্রুত গতিতে দৌড়ান। ফাহিমকে ঠিকঠাক ক্রস দিতে না পারায় বাংলাদেশের কাছে আসা সুযোগ কাজে লাগেনি।
প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের লম্বা পাস বিশ্বনাথ ঘোষ লুফে নিতে না পারায় নবম মিনিটে অফ সাইডের ফাঁদ ভেঙে ফেলেন ওদায় দাব্বাঘ। গোলরক্ষককে একা পেয়েও লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হন। বাঁ পায়ের ভলিতে বল উপরের জালে জড়ায়।
১৪ মিনিটে প্রতিপক্ষের অধিনায়ক আল বাত্তাতের ক্রস সরাসরি লুফে নেন বাংলাদেশি গোলরক্ষক মিতুল মারমা। কয়েক সেকেন্ড পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নেন রাকিব, পোস্টের পাশ দিয়ে বল বেরিয়ে যায়।
আক্রমণে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের ফুটবলাররা উঠলেও ডি বক্সে সময় মতো উপস্থিতির অভাবে ফিনিশিংগুলো কাজে আসেনি । এর মাঝে ১৬ মিনিটে ইসলাম বাতরানের শট সামনে এসে লাফিয়ে ধরে মিতুল জাল অক্ষত রাখেন।
লম্বা পাসে বল আদায় করে বাতরানের ১৯ মিনিটে নেয়া চিপ শট বাংলাদেশি গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে উপরের জালে বল জড়ায়। গোল হজম থেকে এ যাত্রায় বেঁচে যায় হাভিয়ের ক্যাবরেরার দল। তিন মিনিট পর বাত্তাতের নিচু ক্রসে মিতুল বল ধরেন।
২৩ মিনিটে ঈসা ফয়সালের ক্রসে ফাহিম হেড করলেও বল নিয়ে সোহেল রানা নিশানাভেদ করতে পারেননি। মিনিট চারেক পর অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া বল পায়ে টার্ন নিয়ে দেন পাস। ফাহিম বল আদায় করে সোহেল রানার দিকে বাড়ান। গোলের দারুণ সুযোগ থাকলেও সোহেল লক্ষ্য বরাবর শট নিতে পারেননি। অহেতুক উঁচু শট নিলে বল উপর দিয়ে ভলে যায়। সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়ায় বাংলাদেশের ফুটবলারদের শরীরী ভঙ্গিতে হতাশা ঝরে পড়ে।
ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে থাকা দাব্বাঘ ৩২ মিনিটে শট নিলেও পা দিয়ে দারুণভাবে মিতুল তা প্রতিহত করেন। চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে থাকলেও ৪৩ মিনিটে গোল হজমে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ডি বক্সের সামান্য বাইরে ডান প্রান্ত থেকে বাত্তাত নেন ক্রস। মাহমদ আবুওয়ারদার কিক মিতুল সেভ করলেও ফিরতি বলে দাব্বাঘ বল জালে জড়ান। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের তৎপরতা চোখে না পড়াটা ছিল বিস্ময়কর।
বিরতির আগে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ফিলিস্তিনের এক খেলোয়াড়ের নেয়া কর্নার কিক ডি বক্সে থাকা সোহেল রানার শরীরে বল লেগেছিল। সুযোগ বুঝে রক্ষণের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে শেহাব কুমবর ডান পায়ের শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
কর্নার কিক থেকে বল নিয়ে ৪৯ মিনিটে কুমবর তিনজনের ফাঁক দিয়ে আবারো লক্ষ্যভেদ করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-০। দুই মিনিট পর কুমবরের লম্বা পাসে বল নিয়ে বাঁ-পায়ের ভলিতে দাব্বাঘ অনায়াসে বল জালে জড়িয়ে দেন।
আহমেদ মাহাজেনেহর ৫৪ মিনিটে নেয়া হেড অল্পের জন্য পোস্টের উপরের জালে যাওয়ায় ব্যবধান তখন আরও বাড়েনি। কুমবর ৬৮ মিনিটে ডান পায়ের ভলি নিলেও বল উপর দিয়ে যাওয়ায় তিনি হ্যাটট্রিকের দেখা পাননি।
ক্যাবরেরা ৭২ মিনিটে আনেন তিনটি পরিবর্তন। মাঠে নামেন সুমন রেজা, মোহাম্মদ রবিউল হাসান ও জাতীয় দলের হয়ে অভিষিক্ত চন্দন রায়। বেঞ্চে বসে যান ফাহিম, সোহেল ও জনি।
খানিক পর বদলি হিসেবে নামা মিডফিল্ডার মোহাম্মেদ রশিদের দূরপাল্লার শট শূন্যে শরীর ভাসিয়ে হাত দিয়ে দারুণ সেভ করেন মিতুল। ৭৭ মিনিটে দাব্বাঘের শট মিতুল ঠেকালেও শেষ রক্ষা হয়নি। বল বিপদমুক্ত করতে বাংলাদেশি ফুটবলারদের ছুটে আসার ক্ষেত্রে মনে হয়েছিল উদাসীন। ফিরতি শটে ফাঁকা রক্ষণের সুযোগে ঠিকই নিশানাভেদ করে এই ফিলিস্তিনি ফরোয়ার্ড হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান।
বিশ্বনাথের বদলে ৭৯ মিনিটে খেলতে নামেন শাকিল হোসেন। হৃদয়ের স্থানে ৮৫ মিনিটে মাঠে আসেন জায়েদ আহমেদ। খানিক পর জামালের বাঁ-পায়ের শট অল্পের জন্য জালে প্রবেশ করেনি। শেষপর্যন্ত জামালরা পাঁচ গোলের বড় হার নিয়ে মাঠ ত্যাগ করে।







