তীরে এসে তরী ডোবার বেদনায় পুড়ল বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ের খেলা পেরিয়ে যাওয়ার পরও স্কোরলাইন ছিল গোলশূন্য। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ঘটে সর্বনাশ। গোল হজমে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় জামাল ভূঁইয়ার দল।
মঙ্গলবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন স্বাগতিকদের কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরা। খেলার শেষ মুহূর্তে গোল হজম করাকে তিনি ফুটবলারদের মানসিক ঘাটতি মানতে নারাজ বলে জানান। হারের পরও দলকে নিয়ে নাকি তিনি গর্বিত।
‘এটা মনোযোগের ঘাটতি নয়। কখনো আপনি প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পাবেন, কখনো পাবেন না। এটা হতাশাজনক। আসলেই আজ তাদের চেয়েও আগে আমাদের গোল প্রাপ্য ছিল। পয়েন্ট না পাওয়ায় অবশ্যই হতাশ।’
‘আমাদের দল নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিৎ, বিশেষ করে প্রথমার্ধে আমরা রক্ষণে জমাট ছিলাম। যদিও ওরা বল পজিশনে এগিয়ে ছিল, কিন্তু আমরা আধিপত্য করেছি, ভীত ছিলাম না। পরিস্থিতি ভালোভাবে সামাল দিয়েছি। অনেকগুলো কর্নার পেয়েছিল ওরা, সেগুলোও আমরা ভালোভাবে ডিফেন্ড করেছি। শেষ দিকে আমরাও কিছু সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি।’
কুয়েতে অ্যাওয়ে ম্যাচে একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে পাঁচ গোলে হেরেছিল ক্যাবরেরার শিষ্যরা। প্রায় অল্পের জন্য ড্র হাতছাড়া হলেও মাঠের লড়াকু পারফরম্যান্স দেখা গেল। দুই ম্যাচের পার্থক্য নিয়ে কোচের ভাষ্য, ‘প্রথম লেগে আমরা হাই ডিফেন্ডিং করেছি, সেট পিসের মতো পরিস্থিতি দ্বিতীয় লেগে আমরা এড়াতে পেরেছি, আপনারা দেখেছেন। ৯৪তম মিনিট পর্যন্ত আমরা রক্ষণ জমাট করে রেখেছিলাম। প্রথম লেগে আমরা ৪০ মিনিট রক্ষণ জমাট রেখেছিলাম, আজ ৯৪ মিনিট পর্যন্ত পেরেছি।’
ফুটবলারদের প্রশংসাও ঝরেছে ক্যাবরেরার কন্ঠে। অবলীলায় বলে গেলেন, ‘আপনাদেরকে বড় ম্যাচের চাপ ও মনোযোগটা বুঝতে হবে। ফিলিস্তিনের বিপক্ষে যারা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৯৭তম স্থানে আছে, তাদের বিপক্ষে পয়েন্ট পাওয়ার জন্য যতটা সম্ভব আমরা চেষ্টা করেছি। এটা আমাদের দলের মানকে প্রদর্শন করছে।’
‘ফুটবলে এমনটা হতে পারে। আমাদের দল নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিত, বিশেষ করে প্রথমার্ধে আমরা মাঠে বেশ জমাট ছিলাম। যদিও ফিলিস্তিন দল বলের দখলে এগিয়ে ছিল, কিন্তু আমরা আধিপত্য করেছি, ভীত ছিলাম না। পরিস্থিতি ভালোভাবে সামাল দিয়েছি।’
একের পর এক সুযোগ হাতছাড়ার আক্ষেপ নিয়ে স্পেনিয়ার্ড কোচ বলেন, ‘শেষ দিকে কিছু সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি। দ্বিতীয়ার্ধেও ভালো শুরু করলাম। কিন্তু আবারও ছন্দপতনের মুহূর্ত এলো। কিন্তু পরে আমরাও সম্ভবত জয়ের সুযোগ পেয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত শারীরিক শক্তিনির্ভর দলের সামনে আমরা নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে পারলাম না। ফুটবলে এটা হতেই পারে। যাই হোক, ৯৪ মিনিট পর্যন্ত আমাদের জন্য দারুণ ছিল। দল ভীষণ ইতিবাচক ছিল। এখন আমাদের জুনের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভাবতে হবে।’
খেলার ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়ার আগপর্যন্ত বাংলাদেশ গোলরক্ষক মিতুল মারমা পোস্টের নিচে ছিলেন অতন্ত্র প্রহরী। তাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত কোচের মন্তব্য, ‘মাসের পর মাস সে পারফর্ম করছে। মিতুল আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার কী হয়েছে, কী অবস্থা, সেটা দেখতে হবে।’








