লাইফস্টাইল

সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার

সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার

ছবি: সংগৃহীত

হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম, পেশির সংকোচন এবং স্নায়ুর কাজের জন্য পটাশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ উপাদান। কলা, ডাল, আলু, শাকসবজি ও দুধের মতো পরিচিত খাবার থেকেই শরীরের পটাশিয়াহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব।

সুস্থ থাকতে খাবারের তালিকায় ভিটামিন, প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি পটাশিয়ামের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। এটি শরীরের কোষে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, স্নায়ুর সংকেত পরিবহনে এবং পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও পটাশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণ থাকলে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ উপকারী হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের (এনআইএইচ) তথ্য অনুযায়ী, পটাশিয়াম প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন ফল, শাকসবজি, ডাল, বাদাম, দুধ, মাছ ও মাংসে পাওয়া যায়। তাই পটাশিয়ামের চাহিদা পূরণে প্রতিদিনের খাবারে বৈচিত্র্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

পটাশিয়াম কেন প্রয়োজন?

পটাশিয়াম শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সহায়তা করে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম: হৃদ্‌যন্ত্রের পেশির কাজ ও স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে পটাশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ।
  • পেশির কার্যক্রম: হাঁটাচলা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে পেশির সংকোচন ও প্রসারণে এটি ভূমিকা রাখে।
  • স্নায়ুর কাজ: মস্তিষ্ক ও শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে স্নায়ুর সংকেত পরিবহনে পটাশিয়াম প্রয়োজন।
  • তরলের ভারসাম্য: শরীরের কোষের ভেতরে ও বাইরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে এটি সাহায্য করে।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের বিকল্প নয়।

পটাশিয়ামসমৃদ্ধ ৭টি খাবার

১. কলা

পটাশিয়ামের কথা উঠলেই প্রথমে কলার কথা মনে পড়ে। একটি মাঝারি আকারের কলায় আনুমানিক ৪২২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকতে পারে। সহজলভ্য এই ফল সকালের নাশতা কিংবা বিকেলের হালকা খাবার হিসেবে খাওয়া যায়।

২. ডাল

মসুর, মুগসহ বিভিন্ন ধরনের ডাল উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও পটাশিয়ামের ভালো উৎস। এক কাপ রান্না করা মসুর ডালে প্রায় ৭৩১ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকতে পারে। নিয়মিত খাবারে ডাল রাখলে পুষ্টির চাহিদা পূরণেও সহায়তা মেলে।

৩. আলু

আলুতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পটাশিয়াম রয়েছে। মাঝারি আকারের একটি বেক করা আলুর শাঁসে প্রায় ৬১০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকতে পারে। তবে আলু কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল ও লবণ দিয়ে ভাজার পরিবর্তে সেদ্ধ বা কম তেলে রান্না করা ভালো বিকল্প হতে পারে।

৪. শাকসবজি

পালংশাক, ব্রকলি ও টমেটোর মতো খাবারে পটাশিয়াম পাওয়া যায়। প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন রঙের শাকসবজি রাখলে শুধু পটাশিয়াম নয়, অন্যান্য ভিটামিন, খনিজ ও আঁশও পাওয়া যায়।

৫. দুধ ও দই

দুধ ও দই পটাশিয়ামের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনেরও উৎস। এক কাপ এক শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধে আনুমানিক ৩৬৬ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকতে পারে। যাঁদের দুধে সমস্যা হয়, তাঁরা নিজেদের সহনশীলতা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী বিকল্প বেছে নিতে পারেন।

৬. বাদাম

কাজুবাদামসহ বিভিন্ন বাদামে পটাশিয়াম থাকে। পাশাপাশি এগুলোতে স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রোটিনও রয়েছে। তবে বাদাম ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার, তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত লবণযুক্ত বাদামের বদলে লবণ ছাড়া বাদাম বেছে নেওয়া যেতে পারে।

৭. শুকনো ফল

শুকনো এপ্রিকট, কিশমিশ ও শুকনো বরইয়ে পটাশিয়াম তুলনামূলক বেশি থাকে। উদাহরণ হিসেবে, আধা কাপ শুকনো এপ্রিকটে প্রায় ৭৫৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকতে পারে। তবে শুকনো ফলে প্রাকৃতিক শর্করা ও ক্যালরি ঘনভাবে থাকে, তাই পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। খাবারগুলোর পটাশিয়ামের পরিমাণ পরিবেশন, জাত ও রান্নার পদ্ধতি অনুযায়ী কমবেশি হতে পারে। উল্লেখিত পরিমাণগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এনআইএইচের পুষ্টিতথ্যভিত্তিক আনুমানিক হিসাব।

প্রতিদিন কতটুকু পটাশিয়াম প্রয়োজন?

এনআইএইচের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ থেকে ৫০ বছর বয়সী সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের জন্য দৈনিক পটাশিয়ামের পর্যাপ্ত গ্রহণমাত্রা ৩ হাজার ৪০০ মিলিগ্রাম এবং নারীর জন্য ২ হাজার ৬০০ মিলিগ্রাম। এগুলো পর্যাপ্ত গ্রহণমাত্রা, সবার জন্য নির্ধারিত চিকিৎসাগত লক্ষ্য নয়। বয়স, গর্ভাবস্থা, শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য বিষয় অনুযায়ী চাহিদা ভিন্ন হতে পারে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি, ডাল, দুধ বা দই এবং উপযুক্ত পরিমাণে বাদাম রাখলে পটাশিয়াম গ্রহণে সহায়তা পাওয়া যায়। তবে শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই ভালো।

যাদের সতর্ক থাকতে হবে

পটাশিয়াম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও বেশি হলেই বেশি উপকার এমন নয়। দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম বের হতে সমস্যা হতে পারে। ফলে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া কিছু উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের ওষুধ পটাশিয়ামের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই কিডনির সমস্যা থাকলে বা এ ধরনের ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট কিংবা পটাশিয়ামযুক্ত বিকল্প লবণ ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার নির্বাচন করতে হবে।

সব মিলিয়ে, সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাবারে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ উপাদান রাখা ভালো অভ্যাস। তবে এর পাশাপাশি লবণ পরিমিত খাওয়া, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাও জরুরি।

সুস্থতার জন্য দামি খাবার নয়, বরং পরিচিত ও পুষ্টিকর খাবারের সঠিক সমন্বয়ই হতে পারে ভালো শুরুর পথ।

বিষয়:খাদ্যতালিকা স্বাভাবিক কার্যক্রম হৃদ্‌যন্ত্র
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…