সবশেষ ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল জার্মানি। এরপর থেকে নিজেদের হারিয়ে বসেছে। গত ১২ বছর একে একে তিন বিশ্বকাপে চরম ব্যর্থতা, শুনতে হয়েছে কড়া সমালোচনা। চলতি আসরে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিলো চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান জানেন এমন ফলাফলে তাকে নিয়ে বেশ সমালোচনা হবে, তাই হয়ত জানিয়ে দিলেন পালিয়ে যাওয়ার লোক নন।
এক সময় পাওয়ার হাউজ ফুটবলে পরিচিতি ছিল জার্মানির। ইউরোপের জায়ান্টরা গত দুই বিশ্বকাপ এবং চলতি আসরে ইতিহাসের বাজে পরফরম্যান্সে বিদায় নিলো। ২০১৮ এবং ২০২২ আসরে গ্রুপ পর্ব এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে রাউন্ড অব ৩২ থেকে ছিটকে গেল।
বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকে চাপে পড়ে জার্মানি, পরে তারাও আক্রমণ চালায়। ম্যাচের ৪২ মিনিটে লিড আদায় করে নেয় প্যারাগুয়ে। জার্মানি জালে বল পাঠান হলিও এনসিসো। ৫৪ মিনিটে প্যারাগুয়ে জালে বল পাঠান কাই হাভার্টজ। ৯০ মিনিটে ফলাফল না এলে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ম্যাচ। সেখানেও কোন ফল না আসায় টাইব্রেকার, যেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জেতে লাতিন দেশটি।
ম্যাচ শেষে জার্মান কোচ বলেছেন, ‘আমি পালিয়ে যাওয়ার মতো কেউ নই। এমন ঘটনা প্রথম নয়, আজকের কিছু বিষয় আছে যা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। কিন্তু ডিএফবি (জার্মানির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা) যদি চায় আমি চালিয়ে যাই, চালিয়ে যাব। ফুটবলের কলাকৌশল জানি। এ জগৎ কীভাবে কাজ করে তা জানি। অনেকেই চাইবে চলে যাই, কিন্তু ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন চাইলে সানন্দে চালিয়ে যাব।’
‘তারা আমার সাথে নম্রভাবে কথা বলেছেন, আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। এই ম্যাচটা হারার দু’মিনিট পরেই তারা আমাকে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেবেন না। পরাজয়ের ঠিক পরেই তারা কথা বলবেন না।’
জার্মান কোচ জানেন হারের পর বেশ আলোচনা সমালোচনা হবে। জেনেই বলছেন খেলায় হার জিতে মেনে নিতে হবে, ‘জার্মানিতে যদি একটি সমীক্ষা করা হয়, তাহলে আজ মানুষ আমার সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলবে না। কিন্তু ফুটবলে কখনো জয়, কখনো পরাজয়, এটা বরাবরই এমন হয়ে আসছে। এই টুর্নামেন্টে আমরা এমন কিছু করিনি যা নিয়ে মানুষ উল্লাস করতে পারে, কিন্তু আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে আমরা আরও ভালো করতে পারতাম।’







