আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির ভাষ্য, এই হামলা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর নির্লজ্জ আক্রমণ এবং এটি পুরো অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
এনডিটিভি জানিয়েছে, সোমবার (২৯ জুন) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানায়। বিবৃতিতে পাকিস্তানকে সরাসরি দায়ী করে বলা হয়, সীমান্তের বাইরে সামরিক অভিযান চালিয়ে ইসলামাবাদ নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকট থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করছে। ভারতের দাবি, পাকিস্তানের বেপরোয়া আচরণের সর্বশেষ উদাহরণ এই হামলা।
বিবৃতিতে বলা হয়, এমন হামলা পাকিস্তানের বেপরোয়া আচরণের ধারাবাহিক ধারা এবং দেশের সীমানার বাইরে মরিয়া সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতাকে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে। ভারত নিহত আফগান পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে, আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে এবং আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।

সম্প্রতি করাচির একটি আধাসামরিক ঘাঁটিতে সশস্ত্র হামলায় পাকিস্তানের তিন সেনাসদস্য নিহত হন। ওই ঘটনায় তিন হামলাকারীও নিহত হন এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। হামলার দায় স্বীকার করে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সহযোগী সংগঠন জামাত-উল-আহরার।
এর পরই আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানোর দাবি করে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের ভাষ্য, অভিযানের লক্ষ্য ছিল জঙ্গিদের আস্তানা ধ্বংস করা। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, করাচির হামলার পেছনে ভারতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে পাকিস্তান অভিযোগ করলেও তার পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। ভারত ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তানকে আত্মসমালোচনার পরামর্শ দেয়। এর একদিন পরই আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান।







