ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসে (টিএমসি) নতুন করে বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দলটির অন্তত ২০ জন সংসদ সদস্য (এমপি) ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং দল পরিবর্তনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
আজ (৪ জুন) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট এমপিরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন।
বর্তমানে ভারতের পার্লামেন্টের দুই কক্ষ মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ৪১ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে লোকসভায় ২৮ জন এবং রাজ্যসভায় ১৩ জন সদস্য রয়েছেন। ফলে ২০ জন এমপি দল ছাড়লে তা দলটির জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হবে।
সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও বিভাজন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। ইতিমধ্যে দলটির বিধানসভা শাখায় বড় ধরনের বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। বিদ্রোহী একটি অংশ নিজেদের ‘প্রকৃত তৃণমূল’ দাবি করে পৃথক অবস্থান নিয়েছে।
বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি। তারা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতার পদেও নিজেদের প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছে এবং স্পিকারের অনুমোদনও পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী গোষ্ঠী প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি দলের বিভিন্ন সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছে।
দুর্নীতির অভিযোগ এবং আরজি কর মেডিকেল কলেজের আলোচিত ধর্ষণ-হত্যা মামলার ব্যবস্থাপনা নিয়েও দলের ভেতরে অসন্তোষ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্রোহী নেতাদের একটি অংশ সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা এক বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, দলীয় প্রতীক ও নামের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে মনোযোগী হয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। দলের সাংগঠনিক কাঠামোর দ্রুত ভাঙন, বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতার পদ হারানো এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতা ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের ঘটনায় মমতা ব্যানার্জিরওপর চাপ আরও বেড়েছে। বর্তমানে নিজের রাজনৈতিক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।








