এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
পারিবারিক কলহের জেরে নিজের দুই শিশু সন্তানকে ঘুমন্ত অবস্থায় হাওরে ফেলে হত্যা করলেন বাবা। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ ওই পাষণ্ড বাবা কামরুল হাসানকে (৩২) আটক করেছে।
কামরুল হাসান নিজেই পুলিশের কাছে শিকার করেছে, সন্তানদের সে হত্যা করেছে। হতভাগ্য এই দুই শিশু সন্তানের নাম তুলনা আক্তার, তার বয়স সাড়ে তিন বছর। অপর সন্তানের নাম মুহাদ্দিস, তার বয়স ছয় বছর।
শান্তিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ওই দুই শিশুর লাশ হাওর থেকে উদ্ধার করেছে।
পুলিশ জানায়, দিরাইয়ের চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদিরের ছেলে কামরুল হাসান। তার চার সন্তান। স্ত্রী আফরোজা বেগমের (২৫) সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হতো কামরুলের।
পুলিশকে কামরুল জানায়, গেল শুক্রবার পারিবারিক কলহের জের ধরে আফরোজা তার সন্তানদের মারপিঠ করে। এ ঘটনায় তার (কামরুলের মা) মা ফুলজান বেগম বিরক্ত হয়ে আফরোজাকে কথা বার্তা বলায় আফরোজা শাশুরি ফুলজানকেও মারপিঠ করে।
পরে দুই সন্তান মুহাদ্দিস ও তুলনাকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে সিলেটে চলে যায় কামরুল। শুক্রবার রাতে দুই সন্তানসহ সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাত কাটায় সে। পরদিন সিলেট শহরে ঘুরে বাচ্চাদের নিয়ে রাতে আবার ওসমানীতে গিয়ে ঘুমায়। রোববার সন্ধ্যায় সিলেট থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে রওয়ানা দেয় দিরাইয়ের উদ্দেশ্যে। পথে ওদেরকে পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় সে। রাত সাড়ে আটটায় শান্তিগঞ্জের ডাবর এলাকায় ঘুমন্ত তুলনাকে হাওরে ফেলে দেয়। এরপর দিরাই সড়ক মোড় পাড় হয়ে মুহাদ্দিসকেও হাওরে ফেলে হত্যা করে সে।
মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিনে দুই উপজেলায় মুহাদ্দিস ও তুলনার মরদেহ দেখার হাওরে ভেসে উঠলে এই ঘটনা জানাজানি হয়। মৃতদেহ উদ্ধারের পর বুধবার দুপুরে বাবা কামরুলকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
দিরাই থানার ওসি কামরুল ইসলাম বললেন, বাবা ওই দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিল বলে খবর পাই আমরা। বুধবার সন্দেহজনকভাবে মধুপুরের বাড়িতে গিয়ে কামরুলকে আটক করা হয়। থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পুলিশের কাছে নিজের সন্তানদের খুন করার কথা স্বীকার করে। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর কিংবা শান্তিগঞ্জ থানায় মামলা হবে। সেই থানার পুলিশ কামরুলকে দিরাই থেকে নিয়ে যাবে।


