বাবা-মায়ের বিরোধ: যে যুদ্ধে জেতার কেউ নেই
ভিডিও প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য ও প্রাসঙ্গিক বর্ণনা নিচে পড়ুন।
ভিডিওটিতে দেখতে পাবেন- দুটি প্রাণীর মধ্যে তীব্র বিরোধ। আর ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছোট্ট একটি প্রাণী—বারবার ছুটে যাচ্ছে একজনের কাছে, আবার অন্যজনের কাছে। যেন তার একটাই চেষ্টা—যেভাবেই হোক, থামাতে হবে এই লড়াই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হিমালয়ান মারমটের এই দৃশ্যটি প্রকৃতির। কিন্তু অদ্ভুতভাবে, এটি যেন আমাদের ঘরের এক চেনা বাস্তবতার ছবিও।
বাংলাদেশের অসংখ্য পরিবারে বাবা–মায়ের মধ্যে মতবিরোধ, রাগ বা অভিমান হয়। দুজন মানুষের সম্পর্কে এসব কখনো কখনো স্বাভাবিক। কিন্তু সেই মুহূর্তে ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটির কী হয়?
২০২৫ সালে Journal of Youth and Adolescence–এ প্রকাশিত একটি মেটা–বিশ্লেষণে ৮৯টি গবেষণায় ৬৪ হাজারের বেশি শিশু–কিশোরের তথ্য পর্যালোচনা করে বাবা–মায়ের বিরোধের সঙ্গে সন্তানের বিষণ্ণতার লক্ষণের সম্পর্ক পাওয়া যায়।
কারণ, একটি শিশুর কাছে বাবা–মা শুধু দুজন মানুষ নন—তাঁরাই তার নিরাপত্তা, আশ্রয়, তার পুরো পৃথিবী। তাই তাদের মধ্যে চিৎকার, অপমান বা ভয় দেখানোর মতো বিরোধ শিশুর মনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
হিমালয়ের সেই ছোট্ট প্রাণীটি মানুষের ভাষায় কিছু বলতে পারে না। তবুও তার অসহায় ছুটে চলা যেন আমাদের সামনে একটি প্রশ্ন রেখে যায়—
বাবা–মায়ের ঝগড়ায় কে জিতল—সেটা কি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ?
নাকি গুরুত্বপূর্ণ হলো—এই ঝগড়ার পরও যেন শিশুটির ছোট্ট পৃথিবীটা ভেঙে না পড়ে?
প্রতিটি মতবিরোধই হয়তো অযৌক্তিক নয়; গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেটি কীভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানের সামনে রাগ বেড়ে গেলে সবচেয়ে বড় কাজ হতে পারে—চুপ হয়ে যাওয়া। বলা যায়, “এখন না, আমরা একটু পরে শান্ত হয়ে কথা বলব।”
ঝগড়ার পর সন্তানকে বলা যায়, “তুমি ভয় পেয়েছিলে, আমরা বুঝতে পারছি। কিন্তু মনে রেখো, আমরা দুজনেই তোমাকে ভালোবাসি।”
বাবা–মায়ের রাগ হয়তো একদিন শেষ হয়, কথা আবার শুরু হয়। কিন্তু সেই সময়ের ভয় শিশুর মনে থেকে যেতে পারে অনেক বছর।
তাই পরেরবার রাগ যখন বেড়ে যাবে, সন্তানের মুখের দিকে একবার তাকান। হয়তো সে কিছু বলবে না। কিন্তু তার নীরব চোখ যেন বলছে—
“তোমরা ঝগড়া করো না… তোমরাই তো আমার পুরো পৃথিবী।”







