ভারতের দিল্লি বিমানবন্দর হয়ে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। এতে বিমানবন্দরে ‘মালামালের জট’ লেগে যাচ্ছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দিল্লি বিমানবন্দর দিয়ে প্রায় ৯০ হাজার টন পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে- যার ৯ শতাংশই বাংলাদেশের পণ্য। আগে এই পরিমাণ ছিল ২ শতাংশেরও কম।
গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ২৬০ হাজার টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তার মধ্যে বাংলাদেশি পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাকের পরিমাণ ছিল মাত্র পাঁচ হাজার কিলোগ্রাম, যা দুই শতাংশেরও কম।
তবে এ বছরের প্রথম তিন মাসে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দিল্লি বিমানবন্দর দিয়ে প্রায় ৯০ হাজার টন পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে, যার ৯ শতাংশই বাংলাদেশের পণ্য।
বাংলাদেশ থেকে দিল্লির মাধ্যমে তৈরি পোশাক রপ্তানি শুরু হয় গত বছর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। তার আগে বাংলাদেশি গার্মেন্টসের একটা অংশ রপ্তানি করা হতো কলকাতা বিমানবন্দর দিয়ে। আগে ঢাকা থেকে সড়ক পথে কলকাতায় এসে সেখান থেকে বিমানে বা জাহাজে বাংলাদেশি গার্মেন্টস রপ্তানি করা হতো। এখন কাতার বা এমিরেটস এর মতো বিমান সংস্থা কার্গো বিমান কলকাতায় পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে।
এমনিতে দিল্লি অনেক বড় বিমানবন্দর, সেখানে সব বিমান সংস্থার পণ্যবাহী বিমানই আসে, ব্যবস্থাপনাও ভাল। তাই বাংলাদেশি সংস্থাগুলো দিল্লি চলে যায়।
দিল্লি বিমানবন্দরে রপ্তানি এজেন্ট নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ভর্তি প্রায় ৩০টি ট্রাক প্রতি রাতে দিল্লি বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে পৌঁছায়। সেখানে তাদের অপেক্ষা করতে হয়, কারণ কাস্টমস পরীক্ষা না হলে তারা মাল খালাস করতে পারে না।

দিল্লি বিমানবন্দর পরিচালনা করে যে বেসরকারি সংস্থা, সেই দিল্লি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেড চলতি বছর মার্চ মাসে এক সংবাদ বিবৃতিতে জানিয়েছিল, দিল্লি বিমানবন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশি গার্মেন্টস রপ্তানি শুরু হওয়ার পর থেকে এক বছরে আট হাজার টন তৈরি পোশাক স্পেন, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ নানা পশ্চিমা দেশে পাঠানোর বন্দোবস্ত করেছে।
তারা বলছে, আন্তর্জাতিক পণ্য রপ্তানি ব্যবস্থাপনার জন্য তাদের ইতিমধ্যেই ২৮টি ‘ডুয়াল-ভিউ’ এক্স-রে মেশিন রয়েছে আর ‘বাংলাদেশি পণ্যের কারণে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আরও পাঁচটি এক্স-রে মেশিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
কলকাতার তৈরি পোশাক রপ্তানি সংস্থা রাধামনি ইন্ডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সন্দীপ পোদ্দার বলেন, দিল্লি বিমানবন্দর বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সুবিধাজনক দরে পণ্য রপ্তানির প্রস্তাব দেয়। তাই বাংলাদেশি সংস্থাগুলো দিল্লি চলে যায়।
ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনস এর সহ-সভাপতি ইশরার আহমেদ বলেন, যখন থেকে লোহিত সাগর অঞ্চলে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তখন থেকে দক্ষিণ এশিয়ার এমন অনেক রপ্তানি পণ্যই সমুদ্রপথ ছেড়ে আকাশ পথ ধরেছে। এর মধ্যে ফাস্ট ফ্যাশন সংস্থাগুলো বিশেষ করে বিমানে করে তাদের পণ্য রপ্তানি করছে।
পোশাক শিল্পে ‘ফাস্ট ফ্যাশন’ এর অর্থ হল পশ্চিমা দেশগুলোর ফ্যাশন শোয়ে প্রদর্শিত পোশাকের খুব দ্রুত নকল বানিয়ে কম খরচে সাধারণ মানুষের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর বাজারে নিয়ে আসার ব্যবসা। সেজন্য দ্রুত ইউরোপ, আমেরিকার বাজারে এধরণের পোশাক সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দিতে জাহাজে করে না পাঠিয়ে বিমানে এধরণের তৈরি পোশাক পাঠানো হয়ে থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।







