সর্বশেষ জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিবেদনে ইউরোপকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণায়নশীল মহাদেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাপপ্রবাহ, দাবানল এবং বরফের আচ্ছাদন কমে যাওয়াসহ নানা সংকটে অঞ্চলটি ‘মারাত্মক’ প্রভাবের মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি সংস্থা।
বুধবার ২৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং ইউরোপীয় মধ্যম-পরিসরের আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র। এতে বলা হয়, ২০২৫ সালে প্রায় পুরো ইউরোপ জুড়েই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ইসিএমডব্লিউএফ-এর মহাপরিচালক ফ্লোরিয়ান প্যাপেনবার্গার বলেন, ইউরোপ দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে এবং এর প্রভাব ইতোমধ্যেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মে মাসেই অনেক এলাকায় খরা পরিস্থিতি দেখা দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ২০২৫ সালে দাবানল ভয়াবহ আকার নেয়। এতে ১০ লাখ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে যায়, যা প্রায় সাইপ্রাসের সমান। একইসঙ্গে ইউরোপের প্রায় ৭০ শতাংশ নদীতে স্বাভাবিকের তুলনায় পানিপ্রবাহ কমে গেছে। আর্কটিক থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত সামুদ্রিক তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। আটলান্টিক মহাসাগর-এর যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও আইসল্যান্ড সংলগ্ন অংশ এবং ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে তীব্র সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ লক্ষ্য করা গেছে। উপ-আর্কটিক অঞ্চল—নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড এ ২০২৫ সালের জুলাইয়ে টানা ২১ দিনের তাপপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়, যা ইতিহাসে সবচেয়ে তীব্র। ওই সময়ে আর্কটিক সার্কেলের আশপাশে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।
প্রতিবেদন বলছে, ২০২৫ সালের মার্চ নাগাদ ইউরোপে তুষারাবরণ প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। একইসঙ্গে আইসল্যান্ড-এ রেকর্ড পরিমাণ হিমবাহ ক্ষয় লক্ষ্য করা হয়েছে। ইসিএমডব্লিউএফ-এর জলবায়ু কৌশল প্রধান সামান্থা বার্জেস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ভবিষ্যতের কোনো হুমকি নয়, এটি এখনকার বাস্তবতা। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।








