ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে গত আসরে ম্যাচ চলাকালীন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাঠে লুটিয়ে পড়েছিলেন ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন। অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকা ডেনিশ তারকার চারদিকে সতীর্থরা ঘিরে রেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন, কাপড় দিয়ে চারদিক ঢেকে রাখা হয়। মেডিকেল স্টাফদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নানা শঙ্কা-আশঙ্কার মাঝে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেই এরিকসেনের স্মৃতি যেন ফিরিয়ে আনলেন হাঙ্গেরির স্ট্রাইকার বার্নাবাস ভার্গা। বর্তমানে হাসপাতালে তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
স্টুটগার্ট অ্যারেনায় রোববার রাতে এ-গ্রুপের ম্যাচে ৬৮ মিনিট তখন। স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানের সঙ্গে ভার্গার সংঘর্ষ হয়। এ সময় ভার্গা অচেতন অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকায় হাঙ্গেরির ফুটবলাররা তাকে ঘিরে রাখেন। কাপড় দিয়ে চারদিক ঢেকে দেয়া হয়।
হাঙ্গেরির অধিনায়ক এবং লিভারপুল মিডফিল্ডার সোবোসজলাই মেডিকেল স্টাফদের সাথে স্ট্রেচার টেনে তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যান। এরপর ২৯ বর্ষী ফুটবলারকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেয়া হয়, যেখানে তার অপারেশনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এক্স হ্যান্ডলে হাঙ্গেরি ফুটবল ফেডারেশন লিখেছে, বার্নাবাস ভার্গার অবস্থা স্থিতিশীল। হাঙ্গেরি জাতীয় দলের খেলোয়াড় বর্তমানে স্টুটগার্টের একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার মুখের বেশ কিছু হাড় ভেঙেছে এবং গুরুতর আঘাতে ভুগছেন। তিনি হাসপাতালে রাত কাটাবেন।
ম্যাচ শেষে হাঙ্গেরির কোচ মার্কো রসি বলেছেন, আমি খেলোয়াড়দের থেকে যা শুনেছি তা হল বার্নির সেই মুহূর্তে জ্ঞান ছিল না। সবাই তার অবস্থা নিয়ে সত্যিই চিন্তিত ছিল। ডাক্তাররা একটু দেরিতে আসাটা চিন্তার কারণ ছিল। বুঝতে পারছি, এটা বিপজ্জনক পরিস্থিতি ছিল।
সৌভাগ্যক্রমে এখন বলতে পারছি বার্নি কোনো ধরনের ঝুঁকির মধ্যে নেই। সম্ভবত, আগামী ঘণ্টার মধ্যে তার অপারেশন করা হবে। কারণ তার হাড় ভেঙেছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সে সুস্থ আছে। নিশ্চিতভাবে যদি আমরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকি, তবে সে আর দলের অংশ থাকবে না।
যোগ করা সময়ের দশম মিনিটে বাঁ-পায়ের শটে নিশানাভেদ করে হাঙ্গেরিকে জয় এনে দেন কেভিন কসোবোথ। নাটকীয় জয়ের পর ভার্গার জার্সি নিয়ে পুরো দল উদযাপন করে।








