যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বৈঠক করছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। কিয়েভকে আশ্বস্ত করতেই এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে এই বৈঠক বলে জানা গেছে।
স্থানীয়সময় সোমবার (২ অক্টোবর) তাদের এই বৈঠক শুরু হয়।
পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনে ইইউ’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ঐতিহাসিক বৈঠক ডেকেছি। ইউক্রেন ইইউ’র সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করেছে। তারা ভবিষ্যতের সদস্য। আমরা তাদের পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।’
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেয়ারবক বলেছেন, আসন্ন শীত মৌসুমে রাশিয়ার বোমার হাত থেকে বাঁচার জন্য ইউক্রেনের একটা প্রোটেকটিভ শিল্ড দরকার। অর্থাৎ তিনি ইউক্রেনের এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থাকে আরো মজবুত করতে চেয়েছেন।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রাশিয়া যেন মনে রাখে আমরা দীর্ঘ সময়ের জন্য ইউক্রেনকে সামর্থন ও সাহায্য করে যাব।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ১৮ মাসেরও বেশি সময় হয়ে গেছে। এখনও এই বিরোধ মেটার কোনো ইঙ্গিত নেই। ইউক্রেনও এখন পাল্টা আক্রমণের রাস্তায় গেছে। এই পরিস্থিতিতে ইইউ স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা ইউক্রেনকে সাহায্য ও সহযোগিতা করে যাবে। ইইউ’র দেশগুলি মিলে ১৩০ বিলিয়ান ইউরো সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জার্মানি একাই ২০ বিলিয়ন ইউরো দেয়ার কথা বলেছে। আমেরিকা ৬০ বিলিয়ন দিচ্ছে।
রোববার স্লোভাকিয়ার নির্বাচনে রুশপন্থি রবার্ট ফিকোর নেতৃত্বে জোট জিতেছে। তিনি ইউক্রেনকে কোনোরকম সামরিক সাহায্য দেয়ার বিরোধী। ফলে হাঙ্গেরির মতো স্লোভাকিয়াও ইউক্রেন বিরোধী অবস্থান নিতে পারে।
এমনকি ইউক্রেনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ পোল্যান্ডও জানিয়েছিল, তারা আর ইউক্রেনকে অস্ত্র দেবে না। পরে অবশ্য প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তার কথার ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। তিনি বলেছেন, তারা ইউক্রেনকে পরমাণু অস্ত্র দেবেন না।
পোল্যান্ডেও নির্বাচন আসছে। ক্ষমতাসীন দল জেতার জন্য কৃষকদের ভোটের উপর নির্ভর করে। আর ইউক্রেন থেকে শস্য আসার ফলে পোল্যান্ডের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার প্রভাব ভোটে পড়তে পারে।
আমেরিকাও এখন সাময়িকভাবে অর্থসাহায্য বন্ধ রেখেছে। কারণ, আমেরিকায় বাজেট আলোচনা চলছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য জানিয়েছেন, তার আশা আমেরিকা আগের মতোই সমর্থন করবে।
তবে কিয়েভে ইইউ’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের যে বৈঠক হয়েছে, সেখানে ইউক্রেনের প্রতি ইইউ’র নীতিতে খুব বেশি পরিবর্তন হবে এমন কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।










