বিনোদন

‘পুরো দেশই যন্তর মন্তর হবে’, বিজেপি সরকারকে প্রকাশ রাজের চ্যালেঞ্জ

‘পুরো দেশই যন্তর মন্তর হবে’, বিজেপি সরকারকে প্রকাশ রাজের চ্যালেঞ্জ

প্রতিবাদের জায়গা বন্ধ করে দিলে পুরো দেশই যন্তর মন্তরে পরিণত হবে বলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারকা অভিনেতা প্রকাশ রাজ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের সময় পুলিশি পদক্ষেপ, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার গ্রেপ্তার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই অভিনেতা।

ভিডিওবার্তায় প্রকাশ রাজ বলেন, ‘আপনারা বিক্ষোভের স্থান বদলাতে পারেন, বিক্ষোভ থামাতে পারেন, কিন্তু এই দেশের মানুষের কণ্ঠস্বর থামাতে পারবেন না। পুরো দেশই যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে।’

গত ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই আন্দোলন শুরু হয়। সিজেপির পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও অন্যান্য সংগঠনও এতে অংশ নেয়।

প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করা হয়েছে। নারী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কেন একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?

তিনি বলেন, ‘আপনারা এত মরিয়া হয়ে উঠেছেন কেন? দিল্লিতে গুন্ডা পাঠানো হয়েছে। তারা বিক্ষোভকারীদের মারধর করছে, নারী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো আটক বা মামলা হচ্ছে না কেন?’

তবে ভিডিওতে যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন, তাদের নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করেননি অভিনেতা।

দিল্লির দীর্ঘদিনের প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন প্রকাশ রাজ। বিকল্প হিসেবে রামলীলা ময়দান নির্ধারণ করা হলেও সেখানে বিক্ষোভ করতে অর্থ খরচের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

প্রকাশ রাজের দাবি, রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভের জন্য ৫০ হাজার রুপি ফি এবং সমপরিমাণ ফেরতযোগ্য জামানত দিতে হয়। তার অভিযোগ, বছরজুড়ে ওই মাঠ ব্যবহারের সুযোগও সীমিত।

তিনি বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। যন্তর মন্তর বন্ধ করে দিয়ে আপনারা আমাদের রামলীলা ময়দানে যেতে বলছেন। সেখানে পুরো বছরে মাত্র দুই দিন বিনা খরচে বিক্ষোভ করার সুযোগ রয়েছে। আর এর জন্য ৫০ হাজার রুপি ফি, সঙ্গে আরও ৫০ হাজার রুপি জামানত দিতে হবে। এই দেশে প্রশ্ন করতেও কি টাকা দিতে হবে?’

ব্যঙ্গ করে তিনি আরও বলেন, ‘তাহলে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে, কোনো মরুভূমিতে কিংবা হিমালয়ের চূড়ায় বিক্ষোভের ব্যবস্থা করুন। বলুন, সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করতে।’

১০ অক্টোবরের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড বসানো, কয়েকটি মেট্রো স্টেশন ও বাজার বন্ধ রাখা এবং কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিতের খবর পাওয়া যায়। ওই দিন দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাংবাদিক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং সাধারণ পথচারীরাও ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনার পর ১৩ অক্টোবর জাতীয় পতাকা নিয়ে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে স্লোগান দেন সিজেপির কয়েকজন সদস্য। তাদের মধ্যে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাও ছিলেন। তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। বুধবার আদালত তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই ঘটনায় আটক সিজেপির আরেক সদস্য অজিঙ্কা শিন্দেকে ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থানের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিকল্প স্থান হিসেবে নির্ধারণ করেছে দিল্লি পুলিশ। এ সিদ্ধান্তের পেছনে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে

বিষয়:অভিনেতা ককরোচ জনতা পার্টি দিল্লি প্রকাশ রাজ বলিউড সিজেপি

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…