ঠাকুরগাঁওয়ে জগদ্দল ও বেউরঝাড়ি সীমান্ত এলাকায় ভারতের দখলে থাকা ৯১ বিঘা জমি প্রায় ৬ যুগ পর পুনরুদ্ধার হয়েছে বাংলাদেশের। এতে দেশের মানচিত্রের আয়তন বর্ধিত হল। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সেই জমি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) হস্তান্তরের পর সেখানে সাদা নিশানা (পতাকা) উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ শুধু নয়, ভারতও পেয়েছে ২৩.৫ বিঘা জমি।
মঙ্গলবার সকালে ঠাকুরগাঁও-৫০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজীর আহম্মদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার জগদ্দল ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বেউরঝাড়ি সীমান্তে নদীর বুক থেকে জেগে ওঠা ৯১ বিঘা সিকস্তি জমি ভারতের দখলে ছিল। ঠাকুরগাঁও বিজিবি স্ট্রিপ ম্যাপ দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে দেশটির দখলে থাকা জমি পুনরুদ্ধারে বিজিবি দেন-দরবার করে।
সম্প্রতি বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকে দু-দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সার্ভেয়ারের মাধ্যমে যৌথ ভূমি জরিপে একমত পোষণ করে।
এর প্রেক্ষিতে গত ৬ ও ৭ মার্চ বাংলাদেশ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী জরিপ ও চার্জ অফিসার এবং ভারত সার্ভে বিভাগের সহকারী চার্জ অফিসারের সমন্বয়ে বিজিবি-বিএসএফ সরেজমিন হাজির হয়ে জগদ্দল এবং বেউরঝাড়ি বিওপি সীমানা নির্ধারণে যৌথ জরিপ ও এলাকা পরিদর্শন করে।
কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথমদফা ৬ মার্চ ভূমি জরিপ করে প্রায় ১৫ বিঘা ভারতের দখলে থাকা জমি বাংলাদেশের মালিকানা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পক্ষান্তরে প্রায় ৭.৫ বিঘা জমি বাংলাদেশ ভারতকে ছেড়ে দেয়। দ্বিতীয় দফা ৭ মার্চ বেউরঝাড়ি বিওপি এলাকায় জরিপ করে প্রায় ৭৬ বিঘা জমি বাংলাদেশকে হস্তান্তর করে ভারত। অপরদিকে প্রায় ১৬ বিঘা জমি ভারতকে বুঝে দেয় বাংলাদেশ। এতে বাংলাদেশ ৯১ বিঘা এবং ভারত ২৩.৫ বিঘা জমির মালিকানা ফিরে পায়। উদ্ধারকৃত ৯১ বিঘা জমির মধ্যে ৭৭ বিঘা কৃষি জমি, ১১ বিঘাতে রয়েছে চা বাগান এবং ৩ বিঘা অকৃষি।
ঠাকুরগাঁও-৫০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজীর আহম্মদ বলেন, ‘আমরা ম্যাপ দেখে বুঝতে পারি বাংলাদেশের জগদ্দল ও বেউরঝাড়ি সীমান্তের ওপারে বেশকিছু জমি আমাদের রয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের সাথে কথা বলি এবং জরিপের জন্য বলা হয়। এতে দেশটি সম্মতি প্রকাশ করে।’







