আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৌসুমি ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট এই দুর্যোগে শতাধিক ঘরবাড়ি, হোটেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল।
আজ (২১ জুলাই) মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার নুরিস্তান প্রদেশের রাজধানী পারুন এবং আশপাশের এলাকায় হঠাৎ নেমে আসা বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যার পানিতে শহরের বহু বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভেসে যায়।
আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএনডিএমএ) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ৮০ জনেরও বেশি। হতাহতদের বেশির ভাগই পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন পারুন ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আফগানিস্তানও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা শপুল এর প্রধান আশিকুল্লাহ সাফি জানান, বন্যায় পুরো পৌর এলাকা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। বহু হোটেল ও কয়েক ডজন দোকানপাট বিধ্বস্ত হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর শহরের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় পাথর ও ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজেদের উদ্যোগে নিখোঁজদের খোঁজ করছেন।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আকস্মিক বন্যা আফগানিস্তানে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। চলতি বছরের জুন থেকে শুরু হওয়া বর্ষা মৌসুমে ভারত, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বন্যা, ভূমিধস ও বজ্রপাতে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।







