ভারতগামী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় ভারত মহাসাগরে জাহাজ চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী। রোববার ২৪ ডিসেম্বর হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকদিন আগেই ভারতগামী এক জাহাজ অপহরণ করেছিল ইয়েমেনের হুথি জঙ্গি গোষ্ঠী। এরপর সম্প্রতি আবার আরব সাগরে সোমালি জলদস্যুদের পাল্লায় পড়েছিল একটি পণ্যবাহী জাহাজ। এরপর গতকাল ২৩ ডিসেম্বর ভারতগামী একটি ট্যাঙ্কার জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়।
ড্রোন হামলার ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি ঠিকই তবে এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত মহাসাগরে একটি পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয় শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে। জাহাজে ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন বলে জানা যায়। ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও জাহাজের কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ট্যাংকারটির সাথে ইসরায়েল যোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অবশ্য জাহাজটির মালিক জাপানি একটি সংস্থা। এরপরই ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স জানিয়েছে, ড্রোন হামলার জেরে তীব্র বিস্ফরণ হয় জহাজের ডেকে।
এই হামলা নিয়ে এবার মুখ খুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নিয়ে পেন্টাগনের দাবি, ভারতগামী জাহাজে হামলার নেপথ্যে রয়েছে ইরানের একটি ড্রোন। রিপোর্ট অনুযায়ী, জাহাজটির নাম ‘কেম প্লুটো’। এই জাহাজটিকে ডাচ একটি সংস্থা পরিচালনা করছে।
জানা যায়, হামলার পর মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজটির সাথে যোগাযোগ করে। ইসরায়েল যোগ থাকার জেরেই এই জাহাজে ইরান থেকে হামলা চালানো হয় বলে প্রাথমিক ধারণা।
কেম প্লুটো ট্যাঙ্কার জাহাজে হামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং নৌবাহিনী। হামলা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অবশ্য ভারতীয় নৌবাহিনী এখন পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি। জানা যায়, জাহাজে হামলার পরই ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছেছিল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজ।
গুজরাট উপকূলের কাছে এই হামলার পরেই ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্সের তরফ থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একটি বার্তায় বলা হয়, এই অঞ্চল দিয়ে কোনও জাহাজ গেলে যাতে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
এর আগে মালটার পতাকাবাহী ‘এমভি রয়েন’ নামক একটি জাহাজ সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল। সেই সময় সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিল তারা। এই ঘটনাটি ঘটেছিল আরব সাগরে। জাহাজটি ভারতেই আসছিল। সেই জাহাজের আবেদনে সাড়া দিয়ে ভারতীয় নৌবাহিনী সেখানে গিয়ে পৌঁছায় এবং জলদস্যুদের হামলা বানচাল করে দেয়।
এছাড়াও তুরস্ক থেকে ভারতের উদ্দেশে যাত্রা করা পণ্যবাহী জাহাজ হাইজ্যাক করা হয়েছিল লোহিত সাগরে। ইয়েমেনের জঙ্গি গোষ্ঠী হুথি সেই ঘটনার সাথে যুক্ত ছিল। বিভিন্ন দেশের প্রায় ২৫ জন নাগরিক সেই জাহাজে ছিল। অপহৃত জাহাজটির নাম ‘গ্যালাক্সি লিডার’। জাহাজটি ব্রিটিশ কোম্পানির মালিকানাধীন ছিল। এবং এটি পরিচালনা করছিল জাপানের একটি সংস্থা। সেই জাহাজটি যে ব্রিটিশ সংস্থার, তার অংশীদার ছিলেন একজন ইসরায়েলি ধনকুবের আব্রাহাম উঙ্গার।








