দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে ভয়হীন সমাজ গড়ার আহ্বান জানিয়েছে ছায়ানট।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে ছায়ানটের সভাপতি ড. সারওয়ার আলী বলেন, “শুনতে চাই সমাজের অভয়বাণী—যেন সংবাদকর্মীরা নির্ভয়ে প্রকৃত মত প্রকাশ করতে পারে; সকলে যেন নির্ভয়ে গাইতে পারি; যেন সংস্কৃতির সকল প্রকাশ নির্বিঘ্ন হয়—বাঙালি শঙ্কামুক্ত জীবন-যাপন করে।”
তিনি বলেন, গত এক বছরে দেশে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেশ কিছু উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে, যা সমাজে অসহিষ্ণুতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে। যদিও গত বছরের পহেলা বৈশাখ ও বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সারওয়ার আলী বলেন, ছায়ানটের বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর, নালন্দা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বই ছিঁড়ে ফেলা এবং সংবাদপত্র কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা শুধু বিচ্ছিন্ন নয়—এগুলো বৃহত্তর সাংস্কৃতিক সংকটের ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ওপর হামলা এবং বাউল শিল্পীদের হেনস্তার ঘটনাও সমাজে বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২০০১ সালে রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনো জাতিকে তাড়া করে ফেরে এবং সাংস্কৃতিক জমায়েতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।
বাঙালির জীবনে সংগীতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “সংগীত আমাদের আনন্দ-বেদনার সঙ্গী, সংগ্রামের প্রেরণা। মুক্তিযুদ্ধসহ সব অধিকার আদায়ের সংগ্রামে গান আমাদের সাহস জুগিয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে একত্রিত করে গান। কিন্তু একটি গোষ্ঠী ভয়ভীতি দেখিয়ে এই কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে চাইছে।”
তিনি আরও বলেন, বাংলা সংগীতকে তার নিজস্ব ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা চলছে, যা সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার জন্য হুমকি। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও মানুষের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভাষণের শেষাংশে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিশ্বশান্তির আহ্বান জানান ছায়ানটের সভাপতি। তিনি বলেন, “মার্কিন-ইসরায়েলি নিগ্রহে আজ পারস্য সভ্যতাও ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বিশ্ববাসী আজ বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। স্বদেশে আজ নুতন বছরের প্রথম প্রভাতে সবাই কামনা করে বিশ্বশান্তি।”








