ফিফা বিশ্বকাপের বাকি ৪৮ দিন, দুমাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি বিশ্বকাপে আদৌ খেলবে কিনা। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও ইরান ঘোষণা দিয়ে রেখেছে আসরে অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়ে দিলেছে, দেশটির খেলোয়াড়দের স্বাগত জানালেও সাথে আসতে পারবে না ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্যরা।
ইরান জানিয়েছে, বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা এর আগে চেয়েছিল ম্যাচের ভেন্যু যেন বদলান হয়। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলছেন, ইরানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে আইআরজিসির সম্পর্কযুক্ত কাউকে আনার অনুমতি দেয়া হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। এবছরের টুর্নামেন্টে ৪৮ দেশ অংশ নেবে, যা যেকোনো বিশ্বকাপের চেয়ে বেশি। এশিয়া থেকে সরাসরি উত্তীর্ণ দলগুলোর মধ্যে ইরান অন্যতম।
ইরানের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ইরান জাতীয় ফুটবল দল প্রস্তুত।
অন্যদিকে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছে, ইরান উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে চলা বিশ্বকাপে খেলবে। ইরানের গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেয়ার কথা নাকচ করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
সবশেষ বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেছেন, ‘২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে ওয়াশিংটনের কোন আপত্তি নেই। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের এমনকিছু বলা হয়নি যে তারা আসতে পারবে না।’
‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন খেলোয়াড়দের প্রভাবিত করতে চাইবে না। কিন্তু ওয়াশিংটন কর্তৃক বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত আইআরজিসির সাথে সম্পর্কযুক্ত কাউকে খেলোয়াড়দের সাথে আনার অনুমতি দেয়া হবে না।’
‘ইরানকে নিয়ে সমস্যাটা তাদের খেলোয়াড়দের নিয়ে নয়। সমস্যাটা হবে অন্যকিছু লোক, যাদের তারা সঙ্গে আনতে চায়। ইরানের ফুটবল দল সাংবাদিক ও প্রশিক্ষকের ছদ্মবেশে জঙ্গি গোষ্ঠীর অনুগত লোকদের নিয়ে আসতে পারে। আমরা তাদের ঢুকতে দিতে পারব না, কিন্তু খেলোয়াড়দের পারব।’
‘তারা একদল আইআরজিসি সন্ত্রাসীকে আমাদের দেশে এনে সাংবাদিক ও ক্রীড়া প্রশিক্ষক হিসেবে দেখানোর ভান করতে পারে না।’
ফিফার বিশ্বকাপ নিয়ম অনুযায়ী, ইরানের প্রথম ম্যাচের অন্তত পাঁচদিন আগে, অর্থাৎ ১০ জুনের মধ্যে দলটিকে অ্যারিজোনার টুকসনে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে।
যদি তারা বিশ্বকাপ খেলে তাহলে জুন ১৬তে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে। ২২ জুন বেলজিয়াম এবং ২৭ জুন মিশরের বিপক্ষে হবে ইরানের বাকি দুই গ্রুপপর্বের ম্যাচ।








