আফগানিস্তানে কর্মরত জাতিসংঘের কয়েক ডজন নারী কর্মীকে স্পষ্টভাবে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জাতিসংঘের এক নতুন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাদের অধিকার মারাত্মকভাবে খর্ব করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
সোমবার (১১ আগস্ট) আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘ মিশন জানিয়েছে, রোববার আফগানিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ আপডেটে বলা হয়, আফগানিস্তানে কর্মরত মহিলা কর্মীদের সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে,তালেবানরা জাতিসংঘ মিশনকে জানিয়েছে, তাদের ক্যাডাররা হুমকির জন্য দায়ী নয়। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত চলছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল মতিন কানি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি। ‘এটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়। তিনি জানান, জাতিসংঘ কর্মীদের জন্য মন্ত্রণালয়ের একটি স্বাধীন বিভাগ রয়েছে। তাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একটি কৌশলগত পরিকল্পনা রয়েছে। তাই তাদের কোন এলাকায় কাজের জন্য হুমকি নেই।
প্রতিবেদন অনুসারে, আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন, অথবা ইউএনএএমএ, অন্যান্য সংস্থা, তহবিল এবং কর্মসূচির আওতায় কাজ করা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের কাছ থেকে এ হুমকি দেওয়া হয়েছে। এরজন্য তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য জাতিসংঘকে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে হবে।
তালেবানরা ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আফগান নারীদের দেশি-বিদেশি সংস্থায় কাজে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর ৬ মাস পরে জাতিসংঘেও তা প্রয়োগ করে। এখনও নারীদের নিয়োগকারী সংস্থা এবং গোষ্ঠীগুলোকে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। সাহায্য সংস্থা এবং এনজিওগুলো বলছে, তালেবানরা তাদের কার্যক্রম ব্যাহত করেছে। কিন্তু তালেবানরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) জুলাই মাসে আফগানিস্তানের দুই শীর্ষ তালেবান নেতার বিরুদ্ধে নারী ও মেয়েদের নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
আইসিসির বিচারকরা বলেছেন, তালেবান মেয়েশিশু এবং মহিলাদের শিক্ষা, গোপনীয়তা, পারিবারিক জীবন এবং চলাচল, মতপ্রকাশ, চিন্তাভাবনা, বিবেক এবং ধর্মের স্বাধীনতা থেকে ব্যাপকভাবে বঞ্চিত করেছে।
তালেবান আইসিসির পরোয়ানাগুলোকে ভিত্তিহীন বক্তব্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, তারা আইসিসির কর্তৃত্বকে স্বীকৃতি দেয় না। তারা গাজায় প্রতিদিন শত শত নারী ও শিশুকে হত্যার হাত থেকে রক্ষা করতে আদালতের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেছে।







