কসোভোতে সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ফ্রেঞ্চ ওপেনে রাজনৈতিক বিতর্ক টেনে এনে সমালোচনার মুখে পড়েছেন নোভাক জোকোভিচ। সার্বিয়ান টেনিস তারকা কসোভোকে তার নিজ দেশ সার্বিয়ার অংশ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
শুভেচ্ছা বার্তা নেয়ার জন্য একটি টিভি ক্যামেরার লেন্স এগিয়ে দিলে সেখানে জোকো লিখেছেন, ‘কসোভো সার্বিয়ার হৃদয়। সহিংসতা বন্ধ করুন।’ তাতেই বিতর্কের মুখে পড়েছেন যৌথভাবে ২২ বারের রেকর্ড গ্র্যান্ড স্লাম জয়ী।
ফ্রেঞ্চ ওপেনের প্রথম রাউন্ডে অ্যালেক্সান্দার কোভাচেভিচকে ৬-৩, ৬-২, ৭-৬ (৭/১) গেমে পরাজিত করেন র্যাঙ্কিংয়ের তৃতীয় স্থানে থাকা জোকোভিচ। জয়ের পর ওই মন্তব্য করেছেন।
সার্বিয়া ও কসোভোর মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার ইতিহাস বেশ পুরনো। ২০০৮ সালে সার্বিয়া থেকে আলাদা হয়ে কসোভো স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তখন থেকেই চলছে অস্থিরতা। সম্প্রতি কসোভোয় আলবেনিয়ান বংশোদ্ভূত একজন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে গোলোযোগ আবারও বেড়েছে। মেয়রের অপসারণের দাবিতে চলছে বিক্ষোভ।
এরমধ্যেই ন্যাটো শান্তিরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সার্ব বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ২৫ জন নিরাপত্তাকর্মী ও ৫০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। এমন অস্থিরতার মধ্যে ফ্রেঞ্চ ওপেনে রাজনৈতিক মন্তব্য করেছেন জোকোভিচ।
পরে জোকোভিচ অবশ্য মন্তব্যের ব্যাখ্যায় বলেছেন, ‘আমি কোনো রাজনীতিবিদ নই। রাজনৈতিক বিতর্কে যাওয়ারও কোনো ইচ্ছে নেই। কিন্তু বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। কসোভোতে যা ঘটছে, একজন সার্ব হিসেবে তা দেখাটা অনেক কষ্টদায়ক।’
৩৬ বর্ষী টেনিস তারকা বলেছেন, ‘আমার অবস্থান পরিষ্কার। আগেও বলেছি আমি যুদ্ধ, সহিংসতা এবং সবধরনের সংঘাতের বিরুদ্ধে। আমি সব মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল। কিন্তু কসোভোর পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনের ভূমিকা রাখা উচিৎ। তারকা হলেও আমি এমন একজনের সন্তান যার জন্ম কসোভোয়। তাদের প্রতি সমর্থন জানানো আমার দায়িত্ব। এতে অবশ্য আমার কোনো অনুশোচনা নেই।’
গ্র্যান্ড স্লামের আইনে খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক বিবৃতি দেয়া নিয়ে নিষেধ করার মতো কিছু না থাকায় জোকোভিচের শাস্তি পাওয়ার সম্ভাবনাও কম। ছেলেদের ওপেনে রাফায়েল নাদালকে ছাড়িয়ে ২৩তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের পথে আছেন তিনি।







