মহিলা সমিতিতে নাটক মঞ্চায়নে সরকারি প্রণোদনা পুনর্বহালের দাবি
৫ হাজার টাকা থেকে মিলনায়তনের ভাড়া বেড়ে ১১ হাজার ৫০০ টাকা, আর্থিক চাপে নাট্যদলগুলো

বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য সরকারি প্রণোদনা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন দেশের নাট্যব্যক্তিত্ব ও সংস্কৃতিকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মিলনায়তনটিতে নাটক মঞ্চায়নের খরচ বেড়েছে। এতে আর্থিক চাপে পড়ছেন নাট্যকর্মীরা, কমছে এই মঞ্চে নাটক মঞ্চায়নের আগ্রহও।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) থিয়েটার বিষয়ক পত্রিকা ‘ক্ষ্যাপা’র পক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে নাট্যব্যক্তিত্ব ও সংস্কৃতিকর্মীরা বলেন, দেশের নাট্যচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মঞ্চে নিয়মিত নাটক মঞ্চায়ন অব্যাহত রাখতে সরকারি প্রণোদনা দ্রুত পুনর্বহাল করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে জানানো হয়, আগে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে এক শিফটে নাটক মঞ্চায়নের জন্য ভাড়া দিতে হতো ৫ হাজার টাকা। গত জানুয়ারি থেকে একই শিফটের ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৫০০ টাকা। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই ব্যয় বেড়েছে। ফলে টিকিট বিক্রির আয় থেকে প্রদর্শনীর খরচ তুলে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে নাট্যদলগুলোর জন্য।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৭৩ সালে মহিলা সমিতির মঞ্চ থেকেই বাংলাদেশে টিকিট কেটে নাটক দেখার সংস্কৃতির সূচনা হয়। নাট্যদলগুলোর নিয়মিত কার্যক্রমে মুখর এই সড়কের নাম ২০০৫ সালের ২৬ আগস্ট তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা আনুষ্ঠানিকভাবে রাখেন ‘নাটক সরণি’। স্বাধীন বাংলাদেশের শিল্পচর্চা ও নাট্যঐতিহ্যে মহিলা সমিতির এই মঞ্চের গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় অনেক নাট্যদল এখন এই মঞ্চে নাটক মঞ্চায়নে আগ্রহ হারাচ্ছে।
বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জুনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এই খাতে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া শুরু হয়। সর্বশেষ ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে আর কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
বিবৃতিদাতারা জানান, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে মহিলা সমিতির মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য সরকারি অনুদান চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। প্রতি মাসে ২০টি প্রদর্শনীর জন্য প্রতিটির বিপরীতে ৬ হাজার ৫০০ টাকা হিসাবে ১১ মাসে মোট ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
তাদের মতে, দেশের নাট্যঐতিহ্য রক্ষা এবং নাট্যচর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই প্রণোদনা বহাল রাখা সরকারের দায়িত্ব। এমনিতেই বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা সীমিত। তার ওপর বিদ্যমান সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়া নাট্যাঙ্গনের জন্য হতাশাজনক।
বিবৃতিতে দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, মহিলা সমিতির মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য ১১ মাসে ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার সরকারি প্রণোদনা অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নাট্যদলগুলোর আর্থিক চাপ কমাতে নাট্যচর্চার সামগ্রিক প্রণোদনার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিদাতাদের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন ‘ক্ষ্যাপা’ থিয়েটারবিষয়ক পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক অপু মেহেদী। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী নাট্যব্যক্তিত্ব ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন সৈয়দ জামিল আহমেদ, সারা যাকের, অধ্যাপক আব্দুস সেলিম, কামাল হোসেন, মাসুম রেজা, মামুনুর রশীদ, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, ফজলুর রহমান বাবু, শহীদুজ্জামান সেলিম, আজাদ আবুল কালাম, রোজী সিদ্দিকী, নাজনীন হাসান চুমকী, নূনা আফরোজ, শতাব্দী ওয়াদুদ, অনন্ত হিরা, ত্রপা মজুমদার, কাজী নওশাবা আহমেদ, সামিনা লুৎফা, মলয় ভৌমিক, রতন সিদ্দিকী, জ্যোতি সিনহা, বাকার বকুল, জাহিদ রিপন, তৌফিকুল ইসলাম ইমন, মোহাম্মদ আলী হায়দার, রামেন্দু মজুমদারসহ আরও অনেকে।






