অপরাধ

সাংবাদিক কামরুজ্জামানের মামলা প্রত্যাহারে ক্র্যাবের ১০ দিনের আল্টিমেটাম

সাংবাদিক কামরুজ্জামানের মামলা প্রত্যাহারে ক্র্যাবের ১০ দিনের আল্টিমেটাম

বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিক কামরুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। মামলা প্রত্যাহারে পুলিশকে ১০ দিনের সময়সীমা দিয়েছে ক্র্যাব। একই সঙ্গে মামলায় কামরুজ্জামান খানের নাম অন্তর্ভুক্তির পেছনে যারা জড়িত, তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

কামরুজ্জামান খান ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ-এর সিনিয়র রিপোর্টার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মামলার ঘটনার সময় কামরুজ্জামান খান ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদর দপ্তরে অবস্থান করছিলেন। এরপরও তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। দ্রুত তদন্ত করে মামলা থেকে তার নাম প্রত্যাহারের দাবি জানান ক্র্যাব নেতারা।

ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম লাবলু, সারোয়ার আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক নিহাল হাসনাইন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক হাবিবুল্লাহ মিজান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার আরিফ, অর্থ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সিনিয়র সদস্য ইকরামুল কবির টিপু, ইসমাইল হোসেন ইমু, সাইফুল ইসলাম, নাদিয়া শারমিন, সাইফুল জুয়েল, গোলাম মোস্তফা ধ্রুব ও সুশান্ত সাহা।

এ ছাড়া ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি এস এম আবুল হোসেন, সাবেক সহসভাপতি সাব্বির মাহমুদসহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ এবং সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল বলেন, কামরুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে সাজানো ও মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন। মামলা দায়েরের সময় তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ অবস্থায় কীভাবে তাকে মামলায় আসামি করা হলো, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, মামলা দায়েরের আগে অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ১০ দিনের মধ্যে মামলায় কামরুজ্জামান খানের নাম বাদ না দিলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

ক্র্যাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম লাবলু বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, নির্যাতন ও হয়রানির প্রতিবাদে অতীতেও সাংবাদিকদের রাজপথে দাঁড়াতে হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও একজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজপথে দাঁড়াতে হচ্ছে, যা দুঃখজনক।

তিনি বলেন, মামলা দায়েরের আগে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করা হয় বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। কামরুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রেও সেই যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মামলাটি কীভাবে এবং কার প্ররোচনায় হয়েছে, সেটিও তদন্তের দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা কারও প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রু নন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তারা মানুষের কাছে তথ্য তুলে ধরেন। তাই দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো সাংবাদিক যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তাদের দাবি, মামলায় কামরুজ্জামান খানকে আসামি করার আগে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন ছিল। যথাযথ তদন্ত ছাড়া তার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকলে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

মানববন্ধন থেকে কামরুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার, তাকে ভবিষ্যতে হয়রানি না করা এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বিষয়:১০ দিনের আল্টিমেটাম ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিল মামলা প্রত্যাহার সাংবাদিক কামরুজ্জামান

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…