তরুণীর সঙ্গে জামায়াতের সংসদ সদস্যের ভিডিও ভাইরাল, ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ বলে দাবি

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একজন তরুণী ও জামায়াতের সংসদ সদস্যের ছবি, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
আবুল কালাম আজাদ (সাতক্ষীরা প্রতিনিধি): সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা। এর মধ্যে ওই সংসদ সদস্যের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর একটি জীবনবৃত্তান্ত প্রকাশ্যে আসায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে অবস্থান করছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। কখনো তিনি ফোনে কথা বলছেন, আবার কখনো তাকে ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।
ভিডিওর বিষয়ে কথা বলতে সংসদ সদস্যের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, এমপি তাকে অবহিত করেছেন যে ভিডিওতে দৃশ্যমান তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়েছে। বিয়ে কবে হয়েছে—জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা জানান, সুনির্দিষ্ট তারিখ জানা না থাকলেও বিয়েটি বেশ কিছুদিন আগেই সম্পন্ন হয়েছে।
তবে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের একটি জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) সামনে এসেছে। গত ২২ জুন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সেই জীবনবৃত্তান্তে জোর সুপারিশ করে নিজের স্বাক্ষর প্রদান করেন।
জীবনবৃত্তান্তে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মরিয়ম খাতুন ২০০৮ সালের ২২ মে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালে ঢাকা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেন। পরিবারের ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিস্তারিত বিবরণের পাশে তার বৈবাহিক অবস্থার ঘরে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, তিনি ‘অবিবাহিত’।
এদিকে বিতর্কের মুখেই ২১ জুলাই নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি দিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
সংসদ সদস্য লেখেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়াম বেগমকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে শ্বশুরের ব্যবসায়ী কার্যালয়ে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ কয়েকজন বহিরাগতকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে তাদের জিম্মি করে টাকা আদায় করে এবং পরে আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দেয়।
তিনি অভিযোগ করেন, শ্বশুরের সঙ্গে ড্রাইভার ওবায়দুল্লাহর পারিবারিক বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটানো হয় এবং ওবায়দুল্লাহই তাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
সংসদ সদস্য দাবি করেন, ২০২৬ সালের ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে দাবি করে তিনি এ ঘটনার দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি শাস্তির দাবি জানান।






