দক্ষিণ আফগানিস্তানে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে দিতে বাধ্য করায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আফগান সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, মারজাহ জেলায় এই বিয়ে হয়েছিল। সেখানে ওই ব্যক্তির আরও দুটি স্ত্রী রয়েছে এবং তিনি শিশুটির পরিবারকে বিয়ের খরচ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিয়ে নিয়ে হতবাক প্রকাশ করার পাশাপাশি হৃদয়বিদারক হিসেবে আখ্যায়িত করে এর নিন্দা প্রকাশ করেছেন ব্যবহারকারীরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি দেখানো হয়েছে। যেখানে পুরুষটিকে উল্লেখযোগ্যভাবে অল্পবয়সী শিশুটির পাশে দেখা গেছে। এই ছবি অনলাইন এবং মানবাধিকার সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর দেখে তালেবানরা এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে। তারা শিশুটিকে ওই লোকটির বাড়িতে নিয়ে যেতে বাঁধা দেয়। তালেবানরা বলে, মেয়েটিকে নয় বছর বয়সে তার স্বামীর বাড়িতে পাঠানো যেতে পারে।
হাশত-ই সুব ডেইলির প্রতিবেদনে জানা যায়, মারজাহ জেলায় মেয়েটির বাবা এবং বরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যদিও কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
মেয়েটি বর্তমানে তার বাবা-মায়ের সাথে রয়েছে। বিয়ের ব্যবস্থায় ওয়ালওয়ারের নিয়ম অনুযায়ী মেয়েটির চেহারা, শারীরিক গঠন, শিক্ষা এবং আনুমানিক মূল্যের উপর ভিত্তি করে কনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
আফগানিস্তানে বাল্যবিবাহ
২০২১ সালে তালেবানরা আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করার পর থেকে, দেশটিতে বাল্যবিবাহ উল্লেখযোগ্য হাড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দারিদ্র্য বৃদ্ধি, নারী ও মেয়েদের উপর কঠোর বিধিনিষেধ, বিশেষ করে নারী শিক্ষার উপর নিষেধাজ্ঞা। আফগানিস্তানে বিয়ের জন্য আইনগত উল্লেখযোগ্য ন্যূনতম কোন বয়স নেই। বিয়ের জন্য পূর্ববর্তী নাগরিক আইন অনুযায়ী মেয়েদের জন্য বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ১৬ নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা পুনরুদ্ধার করা হয়নি।
গত বছরে জাতিসংঘের নারীর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালেবান মেয়েদের শিক্ষার উপর নিষেধাজ্ঞার জারি করার ফলে দেশব্যাপী বাল্যবিবাহ ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অল্প বয়সে সন্তান জন্মদানের হার ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একারণেই অনিশ্চিত আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি অল্পবয়সী মেয়েদের দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলি ক্রমাগতভাবে জরুরি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহবান জানিয়েছে। কারণ, বাল্যবিবাহ মেয়েদের শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক সুস্থতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। তারা জানায়, বাল্যবিবাহে বাধ্য করা মেয়েদের প্রায়শই ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হয়। এতে অকাল গর্ভধারণ হয়, যা স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি পারিবারিক সহিংসতা এবং গভীর সামাজিক বিচ্ছিন্নতাও তৈরি করে।
মানবাধিকার সংস্থার কর্মীরা জোর দিয়ে বলেন, এই বাল্যবিবাহ কেবল মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে না বরং আফগানিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তারা বিশ্ব নেতাদের তরুণীদের সুরক্ষা এবং ক্ষমতায়নের ব্যবস্থাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহবান জানায়।







