বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে “ইনস্পায়ার্ড বাই নেচার, ফর ক্লাইমেট, ফর আওয়ার ফিউচার”। প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানীর শ্যামলী পার্কে “এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানি-এর দাবিতে” নাগরিক সমাবেশ, মূকাভিনয় ও পোস্টার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেশের ৩১টি পরিবেশ, উন্নয়ন, যুব ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, গবেষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সচেতন নাগরিকরা এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। ব্রাইটার্সের সভাপতি ফারিহা অমির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম।
সভাপতির বক্তব্যে বদরুল আলম বলেন, জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন ব্যবস্থা এবং এর পেছনে থাকা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মুনাফাকেন্দ্রিক কার্যক্রম। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও টেকসই সমাধান হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের কোনো বিকল্প নেই। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার আন্দোলন আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম হলেও দেশে এখনও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্প সম্প্রসারণের প্রবণতা উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকায় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে করমুক্ত সুবিধা ও প্রয়োজনীয় প্রণোদনা প্রদানের দাবি জানিয়ে তিনি জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা বন্ধের আহ্বান জানান। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারকে কার্যকর নেতৃত্ব প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, জীবিকা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তিনি উপকূল সুরক্ষায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বিশেষ বাজেট বরাদ্দ, সবুজ বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সুন্দরবন ও উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানান।
ইক্যুইটিবিডির নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড মোবিলাইজেশন সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল আকন্দ, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক মীর মোহাম্মদ আলী, ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার সানজিদা রহমান, সচেতন ফাউন্ডেশনের হাবিব রহমান, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের ইকবাল ফারুকসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পরিবেশ সুরক্ষায় সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়ায় জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর জরুরি। বক্তারা সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, জীবাশ্ম জ্বালানিতে নতুন বিনিয়োগ বন্ধ এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার সম্প্রসারণের দাবি জানান। পাশাপাশি বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানান।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা নিয়ে ধরা’র সদস্য শাহরিয়ার শাওনের একটি মূকাভিনয় পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিসংবলিত পোস্টার সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিতে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন, বারসিক, ব্রাইটার্স, ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থা, বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার, কোস্ট ফাউন্ডেশন, ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরএফ), ইক্যুইটিবিডি, ইআরডিএ (ইআরডিএ), গ্লোবাল ল’ থিংকার সোসাইটি (জিএলটিএস), গর্জন, হাওর অঞ্চলবাসী, কসমস, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, নোঙর, ওএবি ফাউন্ডেশন, অর্গানাইজেশন ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল কনজারভেশন (ওসিআরইসি), রিভার বাংলা, রিভারাইন পিপল, সচেতন নাগরিক সমাজ, সচেতন ফাউন্ডেশন, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য, স্বপ্নের সিঁড়ি, উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলন, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ওয়াইওসিএএন) এবং ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ওয়াইইডিও)-এর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।







