চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Group

ঋণের বিপরীতে চেক ডিজঅনার মামলা করতে পারবে না ব্যাংক: হাইকোর্ট

Nagod
Bkash July

ঋণের বিপরীতে কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান চেক ডিজঅনার মামলা করতে পারবে না। তবে ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করতে পারবে বলে এক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

Reneta June

ঋণ খেলাপির অভিযোগে একটি বেসরকারি ব্যাংকের করা চেক ডিজঅনার মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তির সাজা বাতিল করে বুধবার বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লা আল বাকী। আর ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাইফুজ্জামান তুহিন। রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আশেক মোমিন।

ঋণের বিপরীতে বর্তমানে আদালতে চলমান ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা সকল চেক ডিজঅনার মামলার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলে আজকের রায়ে আদালত বলেন, ব্যাংক ঋণের বিপরীতে যে চেক নিচ্ছে, সেটা জামানত। বিনিময়যোগ্য দলিল নয়। জামানত হিসেবে রাখা সেই চেক দিয়ে চেক ডিজঅনার মামলা করা যাবে না।

আদালত বলেন, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ একটা চুক্তির মাধ্যমে নেওয়া হয়ে থাকে। ব্যাংকের কিছু দুর্নীতিবাজ, অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের স্বার্থে, তাদের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নে চেকের অপব্যবহার করে মামলা করে থাকে। তাদের ব্যবহার দাদন ব্যবসায়ীদের মতো।

আদালত আরও বলেন, ঋণের বিপরীতে ব্ল্যাংক চেক নেওয়াটাই বেআইনি। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ দিন ধরে এই বেআইনি কাজ করে আসছে।

এসময় হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের প্রতি মৌখিক নির্দেশনা দিয়ে বলেন, আজ থেকে ঋণের বিপরীতে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি চেক ডিজঅনার মামলা করে, তাহলে আদালত তা সরাসরি খারিজ করে দেবেন। একইসঙ্গে তাদের ঋণ আদায়ে অর্থ ঋণ আদালতে পাঠিয়ে দেবেন।

এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি হাইকোর্টের রায়ের আলোকে নির্দেশনা জারি করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরকে নির্দেশের পাশাপাশি সকল প্রকার ঋণের বিপরীতে ইন্স্যুরেন্স কাভারেজ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান আইনজীবী আব্দুল্লা আল বাকী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সেলিমগঞ্জের বরাইল মধ্যপাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী ব্র্যাক ব্যাংক থেকে চার লাখ টাকা ঋণ নেন। ৩৬ কিস্তির মধ্যে পরে তিনি ২২ কিস্তি দেন। কিন্তু পরবর্তীতে কিস্তি জমা দিতে না পেরে ২ লাখ ৯৫ হাজার ৯০৪ টাকার চেক দেন। কিন্তু সে চেক ডিজঅনার হওয়ায় ব্র্যাক ব্যাংক তার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই মামলা করে। ওই মামলায় ২০১৬ সালের ২০ জুন মোহাম্মদ আলীকে বিচারিক আদালত ৬ মাসের সাজা ও ২ লাখ ৯৫ হাজার ৯০৪ টাকা জরিমানা করেন। বিচারিক আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন মোহাম্মদ আলী। সে আপিলের শুনানি শেষে বুধবার রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে ৬ মাসের সাজা থেকে খালাস দেয়ার পাশাপাশি আপিল করার সময় দেয়া টাকার ৫০ শতাংশ তথা এক লাখ ৪৮ হাজার টাকা ১০ দিনের মধ্যে মোহাম্মদ আলীকে দিতে নির্দেশ দেন আদালত।

BSH
Bellow Post-Green View