জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি ১৬ ফেব্রুয়ারি রোববার।
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রোববারের কার্যতালিকার ৫ নম্বর ক্রমিকে বিষয়টি শুনানির জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
এবিষয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনিক আর হক বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র পক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। সে আবেদনটি চেম্বার আদালত হয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের শুনানির জন্য এসেছে। রোববার বিষয়টি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রয়েছে।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল মঞ্জুর করে বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করে গত ২৭ নভেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়া ও অপর দুজনের করা পৃথক আপিল মঞ্জুর করে তাদের খালাসের রায় দেন।
খালেদা জিয়ার পাশাপাশি খালাস পাওয়া অপর দুজন হলেন হারিস চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম ও সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
এই মামলায় হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এছাড়া আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম, এ এইচ এম কামরুজ্জামান মামুন ও মাকসুদ উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। দুদকের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আসিফ হাসান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিম সরকার।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর রায় দেন বিচারিক আদালত। রায়ে খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া।
একপর্যায়ে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ড মওকুফ করে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা আপিল শুনানির উদ্যোগ নেন তার আইনজীবীরা। একপর্যায়ে এই মামলার আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) তৈরির অনুমতি চেয়ে খালেদা জিয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। পরবর্তী আপিল শুনানি শেষে রায় দেন হাইকোর্ট।










