জাতীয় দল তো বটেই, মেয়েদের বয়সভিত্তিক দলেও সাফল্য দুহাত ভরে পেয়েছেন গোলাম রব্বানি ছোটন। তার কোচিংয়েই ২০২২ সালে সাবিনা-মারিয়ারা জিতেছিল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। চলতি বছর দেশের মাটিতেই বসছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। দলের প্রতি শুভকামনা থাকলেও শিরোপা ধরে রাখা যে বেশ কঠিন হবে, তা যুক্তিসহকারে তুলে ধরলেন ৫৫ বর্ষী এ কোচ।
বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসজেএ) শুক্রবার ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। সেখানে হাজির হওয়া ছোটন চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে একান্ত আলাপনে সাফের আসন্ন আসরে ফুটবল কন্যাদের প্রস্তুতির ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ভারত ও নেপাল জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান।
‘এবার সাফের শিরোপা ধরে রাখাটা কঠিন হবে। ভারত ও নেপাল কিন্তু কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে থেকেই গেছে। তারা বেশ ভালো প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা সেই তুলনায় ম্যাচ কম খেলছি। ভারতের মেয়েরা কিন্তু কসোভোর মতো শক্ত দলের সাথেও খেলেছে। তাদের ফুটবলারদের কেউ কেউ দেশের বাইরে লিগ খেলছে। নেপালের সাবিত্রা ভান্ডারি ফ্রেঞ্চ লিগে খেলছে।’
অক্টোবরে আসন্ন সাফের আসর শুরু হতে এখনো বাকি সাত মাস। এই সময়ের মধ্যে ঠিকঠাক প্রস্তুতি নিতে না পারলে ট্রফি আবারো নিজেদের করে নেয়াটা কঠিন হবে বলেই ছোটন মনে করেন। স্বাগতিক দল হিসেবে গ্যালারিতে নিজ দেশের দর্শকদের সমর্থন সুবিধা দিলেও সেটি হতে পারে বাড়তি চাপ, সেই সতর্ক বার্তাও দিলেন।
‘নেপালের বিপক্ষে গতবার ফাইনালের আগে স্বাগতিক দল হিসেবে তারা বাড়তি সুবিধা পাওয়ার জন্য এগিয়ে থাকবে কিনা, সংবাদ সম্মেলনে আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। আমি পাল্টা জবাব দিয়েছিলাম, এটা তাদের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে আসতে পারে। শুরুতেই আমরা যদি গোল দিয়ে বসি, তাহলে নেপাল চাপে পড়ে যাবে। ঠিক সেটাই কিন্তু হয়েছিল, আমরা জিতেছিলাম।’

হিমালয়ের দেশে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে আয়োজিত হয় মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। তারপর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির ১৩ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে ফিফা উইন্ডোতে ফুটবল কন্যাদের দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের সূচি ছিল। লাল-সবুজ জার্সিতে সাবিনা-মারিয়াদের মাঠে নামাই হয়নি সেসময়। বছরের প্রথম উইন্ডোতেই খেলার সুযোগটা হাতছাড়া করে বাফুফে।এপ্রিলে প্যারিস অলিম্পিকের জন্য মেয়েদের এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বে খেলার কথা ছিল। আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে বাফুফে দল পাঠায়নি।
দীর্ঘ ১০ মাস পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা দেশের মাটিতে নেপালের সঙ্গে খেলতে নেমে ড্র করে। পরেরটিতে টাইব্রেকারে হেরে বসে। এশিয়ান গেমসে জাপান ও ভিয়েতনামের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলে বড় ব্যবধানে হারে। নেপালের সঙ্গে আবারো ফলাফল ছিল ড্র। কমলাপুরে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে দুই প্রীতি ম্যাচে বড় জয়ের পর আবারো লম্বা বিরতির ফাঁদে সাবিনার দল।
সাফ জয়ের পর পেরিয়ে গেছে দেড় বছর। এ সময়ের ভেতর মাত্র বাংলাদেশের মেয়েরা মাত্র ৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। ভারত আটটির বেশি ম্যাচ না খেললেও তাদের প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী জাপান, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, জর্ডান ও কসোভো। নেপাল খেলেছে ১০টি ম্যাচ। জাপান, ভিয়েতনাম, ইরাক ও জর্ডানকে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছিল।
আগামী এপ্রিলে ১-৯ এপ্রিল নারী ফিফা উইন্ডো। এই সময় বাফুফে মিয়ানমারে গিয়ে খেলার পরিকল্পনা করছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও সীমান্ত ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যকার পরিস্থিতির কারণে সফরটি নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ছোটনের ভাষ্য, ‘আমি মিয়ানমারে যেতে পারে এই খবরটা শুনেছি। তারা ভালো দল। এরকম প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেললে এটা ইতিবাচক হবে।’
পদত্যাগের পর বাফুফের নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ আবারও মেয়েদের কোচের দায়িত্বে ছোটনকে ফেরার অনুরোধ করেছিলেন। চ্যানেল আই অনলাইনকে প্রায় আট মাস আগে তিনি সাফ বলেছিলেন, ‘বাফুফের ডাকে আর যাওয়ার ইচ্ছা নেই।’ আবারো তার কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, ভবিষ্যতে নারী দলের কোচ হওয়ার প্রস্তাব পেলে গ্রহণ করবেন? এবার তার উত্তর, ‘আবার মেয়েদের কোচ হতে তেমন আগ্রহী নই।’










