দেশ থেকে শুরু করে প্রবাসেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন সাফল্য অর্জন করছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা, তেমনি কিছু প্রবাসীর অসাধু কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের মানও ক্ষুণ্ন হচ্ছে অনেক। তেমনি এক অসাধু কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ইউরোপের দেশ পর্তুগালে।
দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের একটি রাষ্ট্র পর্তুগাল। এখানে অনেক বাংলাদেশি বসবাস করেন। তাদের যেমন রয়েছে অনেক সাফল্যের গল্প তেমনি আবার রয়েছে কিছু প্রতারণারও গল্পও।
জানা যায়, টাকার নেশায় অন্ধ হয়ে কিছু অসাধু বাঙালি প্রবাসী বেছে নিয়েছে প্রতারণার রাস্তা। পর্তুগালে প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু লোক শুরু করেছে ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবসা। পর্তুগালে বসবাসরত কোন প্রবাসীর যদি বাংলাদেশি লাইসেন্স থাকে তবে তা সহজেই পর্তুগিজ লাইসেন্সে পরিবর্তন করা যায়। প্রবাসীরা দেশে ফিরে না গিয়েই খুব সহজেই পর্তুগাল থেকেই পেয়ে যাাবেন এই লাইসেন্স। যার জন্য তাদের গুণতে হবে ২০০০ থেকে ১৫০০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় দাঁড়ায় ২ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে পর্তুগালের বাংলাদেশি বিভিন্ন গ্রুপে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা প্রচার করে থাকেন তারা। তাদের প্রতারণা না বুঝে ফাঁদে পা দিয়েছেন অনেক প্রবাসী। যদি ড্রাইভিং লাইসেন্স অরজিনাল হয়ে থাকে তাহলে তার সম্পূর্ণ বায়োডাটা বিআরটিএ সার্ভারে সক্রিয় থাকবে। আর যদি ফেক হয়ে থাকে, তাহলে তার কোন তথ্য বিআরটি’র সার্ভারে থাকবে না।
পর্তুগাল প্রবাসীদের কাছ থেকে জানা যায়, চক্রটির সাথে জড়িত রয়েছে বিআরটি এর কিছু অসাধু কর্মচারী, যারা শুধু কিছুদিনের জন্য এই লাইসেন্সের তথ্য সার্ভারে রাখে এবং নির্দিষ্ট সময় পরে সেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়। বাংলাদেশ থেকে লাইসেন্স হাতে পাওয়ার পরে পর্তুগালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে অ্যাটেস্টেড করাতে হয়। আর অ্যাম্বাসিতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাইবাছাই করে তারপরেই অ্যাটেস্টেড করা হয়। আর অ্যাম্বাসির যাচাই-বাছাই ক্ষেত্রে যদি কোন তথ্য বিআরটি’র সার্ভারে পাওয়া না যায়, তাহলে তার লাইসেন্সটি অ্যাটেস্টেড করা হয় না।
সূত্র বলছে, পর্তুগালের বসবাসকারী ১০ থেকে ১২ জন এর একটি চক্র রয়েছে, যারা এ ফেক লাইসেন্সের রমরমা ব্যবসা শুরু করেছে। লাইসেন্সটি দেখতে অবিকল আসল লাইসেন্স হলেও মূলত সেটি ফেক।
নিয়ম হল- যদি কোন ডাইভিং লাইসেন্স তথ্য বিআরটি সার্ভারে পাওয়া না যায়, তাহলে সেটি দূতাবাস থেকে অ্যাটেস্টেট করার কথা নয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ইনস্টিটিউট ফর মবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট (ইএমটি) একটি তালিকা পাঠিয়ে পর্তুগালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা সবাই ফেক লাইসেন্স ব্যবহার করছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
আইএমটি কর্তৃক প্রকাশিত তালিকাতে দেখা যাচ্ছে, একই লাইসেন্স নম্বর দুজন ব্যক্তির কাছেই আছে। প্রশ্ন হচ্ছে- অ্যাম্বাসি তাহলে কিভাবে ছাড়পত্র দিয়েছে এই সব ব্যক্তিদের।
নাম প্রকাশেও অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অ্যাম্বাসির আঁতাত ছাড়া এগুলো কখনোই করা সম্ভব নয়। যেখানে সামান্য একটি সার্টিফিকেট অ্যাটেস্টেড করতেই নিজে স্বয়ং উপস্থিত থেকে করতে হয়, সেখানে কেউ না গিয়ে অন্য ব্যক্তি দিয়ে লাইসেন্সের ছাড়পত্র পায় কিভাবে?
আইএমটি কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অচিরেই এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










