বাংলাদেশ

জ্বলন্ত সিগারেট বা মশার কয়েল থেকে বঙ্গবাজারে আগুন

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর সংখ্যা আনুমানিক ৪ হাজার ২০০ জন

বঙ্গবাজারে আগুনের ভয়াবহ দৃশ্য, ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়ছে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

বঙ্গবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য, ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

জ্বলন্ত সিগারেট বা মশার কয়েল থেকে বঙ্গবাজার শপিং কমপ্লেক্সে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করছে ডিএসসিসির তদন্ত কমিটি। তাদের ধারণা, কমপ্লেক্সের আদর্শ ও মহানগর মার্কেটের মধ্যের কোনো জায়গায় আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার কোনো আলামত পায়নি কমিটি।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সব মার্কেট ও ইউনিট থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা পেয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। আজ মঙ্গলবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এদিকে আগুন লাগার সময় মার্কেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রহরী, ইলেকট্রিশিয়ান, কর্মরত ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী নেতাসহ প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছে কমিটি।

কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মহানগর মার্কেট সংলগ্ন আদর্শ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় প্রথমে আগুন লাগতে পারে। কারখানার কাছাকাছি কোনো বিদ্যুৎ বিতরণ বাক্স ছিল না। নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গা ছাড়া পুরো মার্কেটের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল। মার্কেট দুটির বিদ্যুতের লাইন ধারাবাহিকভাবে রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। শুধু নিরাপত্তা প্রহরীদের থাকার জায়গা, মসজিদ ও মার্কেট অফিসে লাইট জ্বলছিল। এছাড়া ওয়াইফাইয়ের রাউটার চালু ছিল।

তদন্ত কমিটির ধারণা, আদর্শ মার্কেটের তৃতীয় তলায় নিরাপত্তাকর্মীদের থাকার কক্ষ ছিল। সেই কক্ষের নিচে ছিল এমব্রয়ডারি কারখানা ও গুদাম। সেহরির সময় তৃতীয় তলা থেকে সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ দ্বিতীয় তলায় পড়তে পারে। এতে এমব্রয়ডারি কারখানা বা গুদামে আগুন লাগতে। এছাড়া নিরাপত্তাকর্মীদের থাকার স্থানে জ্বলন্ত মশার কয়েল থেকেও আগুন লাগতে পারে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যায় বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর সংখ্যা আনুমানিক ৪ হাজার ২০০ জন। তবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রতিবেদন দাখিলের পর জানানো হবে। অবশ্য এ তালিকায় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেট এনেক্স কো’র ব্যবসায়ীদের নাম নেই। এসব ব্যবসায়ীদের ইন্স্যুরেন্স করা আছে বিধায় তারা তালিকায় নাম দিতে চাননি।

এর আগে, বঙ্গবাজারে সংগঠিত অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে আট সদস্যের কমিটি গঠন করে ডিএসসিসি। কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিষয়:বঙ্গবাজার আগুন

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…