একবছর বয়স থেকে ঠিকানা হয়েছিল মাজার, সেখানেই শেষ শিশু ফাতেমা
মাজারের দীঘিতে কুমিরে টেনে নেওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার

A diverse group of Bangladeshi men, women, and children sit and stand on outdoor stairs, engaging in daily activities. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
একবছর বয়স থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের সাথে ঠিকানা হয়ে উঠেছিল বাগেরহাটের খান জাহান আলী (রহঃ) এর মাজার। এখানেই ছিল শিশু ফাতেমার আশ্রয়। এখানেই খেলা, দিঘিতে গোসল, দিঘির ঘাটে খাওয়া, ঘুমানোই ছিল তার নিত্যদিনের বেড়ে ওঠার গল্প। সেখানেই শেষ হয়ে গিয়েছে শিশু ফাতেমার জীবন।
খান জাহান আলী (রহঃ) এর মাজার সংলগ্ন দীঘিতে কুমিরের টেনে নেওয়া শিশু ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ মে) ভোরে দীঘির মহিলা ঘাটের পাশ থেকে তাকে উদ্ধার করে খাদেম ফকির তরিকুল ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
এর আগে মাজার সংলগ্ন দীঘিতে নৌকা নামিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। কুমিরে টেনে নিয়ে যাওয়া নিহত ফাতেমা আক্তার মাজারে ভবঘুরে হিসেবে থাকা এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। এর বেশি পরিচয় জানাতে পারেনি মাজার সংশ্লিষ্টরা ও পুলিশ প্রশাসন।
প্রতক্ষদর্শীরা জানান, রাতে ওই ঘাটে অনেক লোকজন ছিল। মেয়েটি গোসলে নামলে তাকে কুমিরে টেনে নিয়ে যায়। মেয়েটি ও ঘাটে থাকা লোকজন চিৎকার-চেচামেচি করলেও, তাকে উদ্ধার করতে সাহস করে কেউ এগিয়ে আসেনি।
ঘাটের পাশে থাকা দোকানি বিনা বলেন, মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরের কয়েক জায়গায় কুমিরের কামড়ের দাগ রয়েছে।
মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ মহিলা ঘাটে রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে মরদেহ দাফন ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে দিঘীর পাশে হাতে সন্তানের পোশাক নিয়ে নির্বাক বসে আছেন ফাতেমার মমতাময়ী মা। মানসিক ভারসাম্যহীন হতভাগা এই মা জানেন না, তার সন্তান না ফেরার দেশে চলে গেছে। ঠিক সামনেই লাশের ব্যাগে মোড়ানো রয়েছে তার কলিজার ধন শিশু ফাতেমার মরদেহ। মায়ের কোন ঠিকানা কিংবা নাম পরিচয় জানা নেই কারো। স্থানীয়রা এতটুকুই জানেন এই পাগলিটির ফুটফুটে একটি সন্তান, ছিল যার নাম ফাতেমা।
স্থানীয়রা জানান, ফাতেমার যখন আনুমানিক এক বছর বয়স তখন থেকেই মা আর এই শিশু সন্তানের ঠিকানা হয়ে ওঠে খানজাহান রহমাতুল্লাহ আলাইহির মাজার দিঘির ঘাট ও আশপাশের এলাকা।
এখানেই ছিল শিশু ফাতেমার আশ্রয়। এখানেই খেলা, দিঘিতে গোসল, দিঘির ঘাটে খাওয়া, ঘুমানোই ছিল তার নিত্যদিনের বেড়ে ওঠার গল্প। সেখানেই শেষ হয়ে গেল শিশু ফাতেমার জীবন।






