কুমিল্লা থেকে: ‘সেদিনের সোনাঝরা সন্ধ্যা, আর এমনি মায়াবী রাত মিলে’- পুরনো দিনের গানটির সঙ্গে আবাহনী-মোহামেডানের অতীত দ্বৈরথের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুদলের ম্যাচ মানেই ছিল গ্যালারিতে জমজমাট হৈহৈ, আর ফুটবলারদের সন্ধ্যাতারা হয়ে মাঠে রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা। রাতের আকাশে খেলা শেষে কেউ ফিরেছে জয়মাল্য পরে, কেউ ফিরেছে বুকের মাঝে পরাজয়ের বিষাদসিন্ধু ধারণ করে। ছিল নান্দনিকতা, ফুটবলপ্রেমের মায়াবী ছোঁয়া, পরিবার, বন্ধুমহলে চায়ের টেবিলে ঝড়। রঙিন দিনগুলো আর নেই সোনার খাঁচায়। স্মৃতির পাতায় ফেলে আসা সন্ধ্যা-রাতের মাঠের উত্তাপ ছড়ানো সময়গুলো এখন শুধুই সোনালী অতীত।
দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবং আবাহনী লিমিটেড। অথচ ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামের গ্যালারির বেশিরভাগ অংশই ম্যাচ শুরুর আধাঘণ্টা আগেও ফাঁকা। ভিআইপি বক্সের ডান ও বাঁ-পাশের ছাউনিযুক্ত গ্যালারি ছিল পূর্ণ। একপাশ মোহামেডান সমর্থকদের দখলে, আরেক অংশে আবাহনীর সমর্থকদল। অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাদের উল্লেখযোগ্য অংশ ঢাকা থেকে এসেছেন। স্থানীয় দর্শকদের মোহামেডান-আবাহনী দ্বৈরথ যে টানতে পারেনি, সেটি দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার।
কুমিল্লার মাটিতে পা রেখে বোঝার উপায় ছিল না মোহামেডান-আবাহনী ফাইনাল এখানে হচ্ছে। নেই কোনো আলোচনা, নেই চায়ের টেবিলে ঝড়। ঢাকা থেকে খেলা দেখতে আসা সমর্থকদের মুখে শুনেই স্থানীয়দের অনেকে জানছেন, তাদের শহরে আজ ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনালে খেলবে মোহামেডান ও আবাহনী। টুর্নামেন্টের আয়োজকদের ফাইনাল নিয়ে কুমিল্লা শহরে ছিল না প্রচারণার উদ্যোগ।

বর্তমান প্রজন্ম ‘ক্লাব রাইভালরি’ বা দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের দ্বৈরথের রোমাঞ্চ বলতে এখন বোঝে রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা কিংবা ম্যানচেস্টার সিটি-লিভারপুল, বা এসি মিলান-ইন্টার মিলানের কথা।
অথচ একটা সময় ছিল, যখন আবাহনী ও মোহামেডান ফুটবল ম্যাচ মানেই দুই ভাগে বিভক্ত গোটা বাংলাদেশ। গ্যালারিতে দু’পক্ষের সমর্থকদের মারামারি ছিল নিত্য ঘটনা। ক্লাব পতাকা ও জার্সি বিক্রির লেগে যেত হিড়িক। টেলিভিশনের সামনে থাকত উপচে পরা ভিড়। বেতারে কান পেতে থাকা ফুটবলপ্রেমীরাও বুদ হয়ে থাকতেন প্রতিটি মুহূর্তে নিজের মনের মাঝে খেলার দৃশ্যের ক্যানভাস আঁকতে। বিজয়ী দলের সমর্থকরা পাড়া-মহল্লায় বের করত আনন্দ মিছিল। দেশের বর্তমান প্রজন্মের কাছে এসব ঘটনা এখন অবিশ্বাস্য কথামালা। যদিও দুদশক আগেও এমন ছিল না বাস্তবতা।








