রেগে সংগীতের অবিসংবাদিত কিংবদন্তী বব মার্লের মৃত্যুদিন আজ। ১৯৮১ সালের এই দিনে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান তিনি। কিন্তু চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর গান, দর্শন ও জীবনসংগ্রাম এখনো অনুপ্রেরণা জোগায় কোটি মানুষের হৃদয়ে।
জ্যামাইকায় জন্ম নেওয়া বব মার্লে শুধু একজন সংগীতশিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন শান্তি, মানবতা ও সাম্যের প্রতীক। নো ওমেন নো ক্রাই, বাফালো সোলজার কিংবা ইজ দিস লাভ-এর মতো কালজয়ী গানের মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন ভালোবাসা ও প্রতিরোধের বার্তা।
তাঁকে বলা হতো, তৃতীয় বিশ্ব থেকে উঠে আসা প্রথম সুপারস্টার! মৃত্যুদিনে এই কিংবদন্তীকে স্মরণ করতে তাঁর জীবন ও সংগীতভিত্তিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র দেখে নিতে পারেন ভক্তরা। কারণ বব মার্লে শুধু সংগীত দুনিয়ায় এক সাধারণ নাম নয়, তিনি প্রতিবাদ, প্রেম ও মানবতার এক চিরন্তন প্রতীক।
তাঁর মৃত্যুদিনে তাই এই চলচ্চিত্রগুলো হতে পারে কিংবদন্তী এই শিল্পীকে নতুনভাবে জানার এক অনন্য মাধ্যম:
মার্লে (২০১২)
২০১২ সালে নির্মিত এই ডকুমেন্টারিটি পরিচালনা করেন কেভিন ম্যাকডোনাল্ড। এখানে বব মার্লের জীবনের গল্প উঠে এসেছে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের বর্ণনায়। স্ত্রী রিটা মার্লে, সংগীতশিল্পী বানি ওয়াইলার ও প্রযোজক লি ‘স্ক্র্যাচ’ পেরি-সহ অনেকের সাক্ষাৎকার রয়েছে এতে। বব মার্লের শৈশব, সংগীতজীবনের শুরু এবং বিশ্বজয়ের গল্প উঠে এসেছে এই প্রামাণ্যচিত্রে।
বব মার্লে: দ্য মেকিং অব আ লিজেন্ড (২০১১)
এটি মূলত বব মার্লের খ্যাতি পাওয়ার আগের জীবন নিয়ে নির্মিত। ১৯৭০-এর দশকে ধারণ করা দুর্লভ কিছু ফুটেজের ভিত্তিতে তৈরি এই ডকুমেন্টারিতে দেখা যায়, কীভাবে ছোট ছোট মিউজিক ক্লাব থেকে উঠে এসে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বসংগীতের অন্যতম বড় নাম।
রিবেল মিউজিক: দ্য বব মার্লে স্টোরি (২০০১)
এই চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও রাস্তাফারি দর্শনের প্রতি বব মার্লের গভীর বিশ্বাস। তাঁর গান কীভাবে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছিল, সেটিই দেখানো হয়েছে এই অন্তরঙ্গ প্রামাণ্যচিত্রে।
বব মার্লে: ওয়ান লাভ (২০২৪)
এটি বব মার্লেকে নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত জীবনীধর্মী সিনেমা। রেনাল্ডো মার্কুস গ্রিন পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে বব মার্লের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কিংসলে বেন অদি এবং রিটা মার্লের চরিত্রে দেখা গেছে লাশানা লিঞ্চকে।
চলচ্চিত্রটি মূলত ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সালের সময়কালকে কেন্দ্র করে নির্মিত, যেখানে দেখানো হয়েছে বব মার্লের ওপর হামলার ঘটনা, লন্ডনে নির্বাসিত জীবন, বিখ্যাত এক্সোডাস অ্যালবাম তৈরির পেছনের গল্প এবং জ্যামাইকায় ফিরে ঐতিহাসিক ‘ওয়ান লাভ পিস কনসার্ট’-এ অংশ নেওয়ার ঘটনা। সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল চলচ্চিত্রটি। বিশেষ করে জ্যামাইকার সংস্কৃতি ও পরিবেশকে বাস্তবভাবে তুলে ধরার জন্য প্রশংসিত হয় এটি। আমেরিকান সং রাইটার অবলম্বনে








